বিএনপি সরকারের ওপর চাপানো হলো বিতর্কিত নাসিমুল গণিকে: ড. ইউনূসের প্রভাব বিস্তার?

বিএনপি সরকারের ওপর চাপানো হলো বিতর্কিত নাসিমুল গণিকে: ড. ইউনূসের প্রভাব বিস্তার?
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

তারেক রহমান-নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে নাসিমুল গণির নিয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নাসিমুল গণির সঙ্গে হিজবুত তাহরীরের পূর্ব যোগসূত্রের অভিযোগ রয়েছে, এবং এই নিয়োগকে প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে ‘সার্বিক তত্ত্বাবধান’ নিশ্চিত করার কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।

দলীয় ও প্রশাসনিক সূত্র জানায়, প্রথমে তারেক রহমানের নিজে বাছাই করা মোহাম্মদ সিরাজুদ্দিনকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সিরাজুদ্দিন বিএনপির ঘনিষ্ঠ এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই নিয়োগ পরিবর্তন করে নাসিমুল গণিকে পদে বসানো হয়। এই পরিবর্তনের পেছনে ড. ইউনূসের প্রভাব কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ড. ইউনূসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নাসিমুল গণি সবচেয়ে ক্ষমতাশালী সচিব হিসেবে পরিচিত ছিলেন (বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে), এবং তাকে বিএনপি-গঠিত নতুন সরকারের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা চলছে।

নাসিমুল গণির হিজবুত তাহরীর যোগসূত্রের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি ২০০০ সালে বাংলাদেশে হিজবুত তাহরীরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন ছিলেন, যদিও সরকারি পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিন্ন (ব্রিটিশ নাগরিক নাসিম গণি) এবং এটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে এই বিতর্কের মধ্যেই গণি স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সম্প্রতি পাকিস্তানে দীর্ঘ সফর করেছেন।

নাসিমুল গণি (স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে) তার দ্বিতীয় দীর্ঘ সফরে পাকিস্তানে গেছেন। প্রথম সফর ছিল ৯ দিনের (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে), এবং দ্বিতীয় সফর ৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১০ দিন চলেছে। এই সফরগুলো ঘোষণা ছাড়াই হয়েছে, যা উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে—বিশেষ করে বাংলাদেশে আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে চরমপন্থী ইসলামী গোষ্ঠীর উত্থান এবং ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতিতে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রেক্ষাপটে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই সফরগুলো নজরদারি করছে।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ মহলে এই নিয়োগ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ। একাধিক নেতা বলেন, “এটি নতুন সরকারের ওপর পুরনো প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা। সংস্কার পরিষদের নামে যেমন হস্তক্ষেপ চলছে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বিশ্বস্ত লোক ঢোকানো হচ্ছে।”

প্রফেসর ইউনূসের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, নিয়োগ যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়েছে এবং এটি সংস্কার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

বিএনপির মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা নতুন সরকার গঠনের প্রথম দিনেই রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, এবং জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কেন নির্বাচিত সরকারের ওপর পুরনো প্রভাব অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

Visited 18 times, 1 visit(s) today