ইউনূস সরকারের প্রেস উইংয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মেঘনা গ্রুপে নিয়োগ: মিডিয়া পাড়ায় তীব্র বিতর্ক

ইউনূস সরকারের প্রেস উইংয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মেঘনা গ্রুপে নিয়োগ: মিডিয়া পাড়ায় তীব্র বিতর্ক
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস উইংয়ের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়োগ পেয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এ।

মেঘনা গ্রুপের নতুন ইংরেজি দৈনিক পত্রিকার এডিটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শফিকুল আলম, যিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ছিলেন এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রভাব বিস্তারের জন্য বিভিন্ন মহলে বিতর্কিত নাম হিসেবে পরিচিত, এবং এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ পেয়েছেন আজাদ মজুমদার, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব করেছেন, এবং সকল মিডিয়ায় নজরদারির জন্য ও চাপ প্রয়োগ করে অন্তর্বর্তী সরকার বিরোধী সংবাদ অপসারনের জন্য ব্যাপক প্রসিদ্ধ ছিলেন।

এই নিয়োগ নিয়ে মিডিয়া পাড়ায় ব্যাপক বিতর্ক চলছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—এটি যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে হয়েছে, নাকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাব ও প্রতিপত্তি প্রয়োগ করে মেঘনা গ্রুপকে ‘পুষতে’ বাধ্য করা হয়েছে? দুই ব্যক্তিকেই বিতর্কিত বলে উল্লেখ করে সমালোচকরা বলছেন, সরকারি পদ থেকে সরাসরি বেসরকারি খাতের মিডিয়া প্রকল্পে এমন নিয়োগ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মিডিয়া স্বাধীনতার প্রশ্ন তোলে।

মেঘনা গ্রুপ, যা রাসায়নিক, সিমেন্ট, ভোক্তা পণ্য, রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত, এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রাক্তন সরকারি প্রভাবের ছায়ায় পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন প্রেস সচিব শফিকুল আলম (যিনি এএফপির ব্যুরো চিফ ছিলেন এবং পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হন) তুরস্কের অনুদান বা সহায়তার মাধ্যমে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা স্ট্রিম চালু করার বিষয়ে ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ শোনা গিয়েছিল। শোনা যায়, তুরস্কের লবি ধরে এই নতুন পত্রিকায় বড়সড় বিনিয়োগ হয়েছে, এবং পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে অদৃশ্য কলকাঠি নেড়েছেন শফিকুল আলম। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক (যেমন রোহিঙ্গা সহায়তা, দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ইত্যাদি) এই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

যদিও এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি, তবে এটি মিডিয়া খাতে সরকারি প্রভাব ও বিদেশি অর্থায়নের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে। মেঘনা গ্রুপের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে এই নিয়োগগুলোকে ‘পুরস্কার’ বা ‘প্রভাব ধরে রাখার’ কৌশল বলে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনা নতুন সরকার গঠনের পরও অন্তর্বর্তীকালীন প্রভাবের অব্যাহততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মিডিয়া স্বাধীনতা, বেসরকারি খাতের স্বায়ত্তশাসন এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পর্কের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

Visited 69 times, 1 visit(s) today