❐ জেলা প্রতিনিধি
রংপুরে নির্বাচনকে সামনে রেখে দুটি ভোটকেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একইসাথে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে ভোটারদের মাঝে। ভোটকেন্দ্রে কী ঘটতে চলেছে- এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।
গতকাল ১০ই ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার গভীর রাতে তারাগঞ্জ উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ভোটকেন্দ্র থেকে মোট চারটি সিসি ক্যামেরা চুরি হয়।
চুরির শিকার কেন্দ্র দুটি হলো কুশা দর্জিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সয়ার ইউনিয়নের সয়ার ডারারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিটি কেন্দ্র থেকে দুটি করে ক্যামেরা খোয়া গেছে।
আজ বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন।
তিনি জানান, সকালে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং চুরি হওয়া ক্যামেরার পরিবর্তে দ্রুত নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা কেন্দ্র দুটিতে প্রবেশ করে সিসি ক্যামেরাগুলো খুলে নিয়ে যায়। সকালে কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি টের পেয়ে প্রশাসনকে অবহিত করেন। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-২ সংসদীয় আসনে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মন্ডল, বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও দণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকার এ টি এম আজহারুল ইসলাম।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৫ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ২৮৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন। পুরো আসনে ১৩৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।
নির্বাচনের আগমুহূর্তে ভোটকেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনায় ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় নির্বাচন কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
