❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার প্রতিবাদ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মিছিলটি পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে।
শনিবার বেলা সাড়ে বারোটার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে কর্মসূচি পালনকালে মিছিলে পুলিশি বাধার অভিযোগ তুলো সংগঠনটি।
‘রংপুরসহ চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মুক্তি মেলবে কোন পথে’ লেখা ব্যানার নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন সংগঠনটির নেতাকর্মীসহ প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক মানুষ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করা হলে পুলিশ বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন আয়োজকেরা।
পরে মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে পুলিশি বাধায় আগাতে না পারায় শেষ করতে বাধ্য হন আয়োজকেরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি বিশেষ চক্র তাদের ‘হীন উদ্দেশ্য ও স্বার্থ চরিতার্থের’ জন্য রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
তাদের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা আড়াল কিংবা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হতে পারে এবং এ কারণে পুলিশের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে তাদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের বয়ান তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে সংসদে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিবৃতি দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করার দাবি জানান তারা।
তাদের ভাষ্য, রংপুরের হত্যাকাণ্ড শুধু স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে নয়, সারা দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি করেছে। এ ধরনের ঘটনা সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগে প্ররোচিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত থাকার অভিযোগ করেন। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে গত জুলাই মাসে সারা দেশে ৪১টি আংশিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনার মধ্যে ছয়টি হত্যাকাণ্ড ও দুটি ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাটের ১০টি, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তারের দুটি, আদিবাসীদের ওপর হামলার পাঁচটি, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ১০টি, জোরপূর্বক জমি দখলের দুটি এবং অন্যান্য চারটি ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়।
সমাবেশ থেকে রংপুরের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান নেতারা।

