শুরুতে না দিলেও শেষ মুহুর্তে ২০২৫ সাল পর্যন্ত উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশঃ সবাই আগে থেকেই কোটিপতি! 

শুরুতে না দিলেও শেষ মুহুর্তে ২০২৫ সাল পর্যন্ত উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশঃ সবাই আগে থেকেই কোটিপতি! 
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এসে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত উপদেষ্টা মণ্ডলীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই এই বিবরণী প্রকাশের প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রায় দেড় বছর পর এবং দায়িত্বের শেষ পর্যায়ে এসে এটি প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে দায়িত্ব গ্রহণের সময় (২০২৪ সালের আগস্ট) কার সম্পদ কত ছিল, তা জানার কোনো সরকারি দলিল বা প্রমাণ আর প্রকাশ্যে নেই।

 

প্রকাশিত বিবরণীতে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ উপদেষ্টা ও তাদের স্ত্রী/স্বামীর সম্পদ গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। শুধু পরিবেশ উপদেষ্টা রেজওয়ানের সম্পদ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে—প্রায় ১ কোটি টাকা। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা। কয়েকজন উল্লেখযোগ্য উপদেষ্টার সম্পদের পরিবর্তন নিম্নরূপ:

  • আসিফ জনরুলের সম্পদ বেড়েছে ১২ লাখ টাকা, তার স্ত্রী শীলা আহমদের সম্পদ বেড়েছে ৪২ লাখ টাকা।
  • আদিলুর রহমানের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা, তার স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে ৬৩ লাখ টাকা।
  • স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের নিজস্ব সম্পদ না বাড়লেও তার স্বামীর সম্পদ কমেছে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা।
  • শারমিন এস মুরশীদের স্বামীর পূর্বের সম্পদের কোনো বিবরণ না থাকলেও ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে তার সম্পদ দেখানো হয়েছে ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
  • সংস্কৃতি উপদেষ্টা ফারুকির সম্পদ কমেছে মাত্র ৯ লাখ টাকা, কিন্তু তার স্ত্রী নুসরাত তিশার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ছাত্র উপদেষ্টাদের সম্পদের উল্লম্ফন।

আসিফ মাহমুদের মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে শূন্য থেকে বেড়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। একইভাবে মাহফুজ আলমের সম্পদ ৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এই দুজনের যেতো পরিমান দুর্ণিতির খবর বের হয়েছে পত্রিকায়, তাতে প্রকাশিত সম্পদ বিবরণী হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশাসনকর্মীরা এই বিবরণী প্রকাশের সময়কাল ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে সম্পদ বিবরণী প্রকাশ না করে শেষ মুহূর্তে এবং শুধুমাত্র একটি সময়ের (৩০ জুন ২০২৫) ছবি দেখানো হয়েছে। ফলে কোনো উপদেষ্টার সম্পদ কীভাবে বেড়েছে বা কমেছে, তার ধাপে ধাপে পরিবর্তন বা উৎস জানার কোনো উপায় নেই।

একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার বলেন, “যখন দায়িত্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে, তখন এই বিবরণী প্রকাশের তাৎপর্য কী? জনগণের কাছে স্বচ্ছতা প্রমাণের জন্য তো শুরুতেই প্রকাশ করা উচিত ছিল। এখন শুধু টাইপ করা একটি কাগজ দেখিয়ে বলা হচ্ছে—এটাই সত্য। এতে সন্দেহের অবকাশ থেকে যায়।”

অনেকে মনে করছেন, এই বিবরণী প্রকাশের মাধ্যমে সরকার কিছুটা স্বচ্ছতার দাবি করতে চাইলেও, সময়কাল ও পদ্ধতির কারণে তা উল্টো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ছাত্র উপদেষ্টাদের সম্পদের উল্লম্ফন এবং একজন উপদেষ্টার সম্পদ কমার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।

 

Visited 8 times, 1 visit(s) today