পোস্টাল ব্যালটে ভিন্ন-ভিন্ন নিয়ম: প্রবাসীদের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা, সরকারী কর্মচারীদের ভোট উন্মুক্ত

পোস্টাল ব্যালটে ভিন্ন-ভিন্ন নিয়ম: প্রবাসীদের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা, সরকারী কর্মচারীদের ভোট উন্মুক্ত
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে কোনো ক্রমিক নম্বর না থাকা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টাল ব্যালটে নির্দিষ্ট ক্রমিক নম্বর থাকার বিষয়টি নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা এই দুই ভিন্ন পদ্ধতিকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

 

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে, প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে কোনো ধরনের ক্রমিক নম্বর বা ট্রেসিং আইডেন্টিফায়ার নেই। ফলে কোনো প্রবাসী ভোটার কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা পরবর্তীতে চ্যালেঞ্জ করা বা ট্র্যাক করার কোনো সুনির্দিষ্ট উপায় থাকছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবস্থা ভোট কারচুপির জন্য সহজ সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। কোনো ব্যালটের সঙ্গে ভোটারের পরিচয় যুক্ত না থাকায়, ব্যালট বিনিময়, অতিরিক্ত ব্যালট ব্যবহার বা ফলাফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটলেও তা প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

 

অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের (যাদের পোস্টাল ভোটের সুবিধা দেওয়া হয়েছে) ব্যালটে নির্দিষ্ট ক্রমিক নম্বর রয়েছে। এর ফলে ভোট গণনার পর বা কোনো বিতর্কিত পরিস্থিতিতে সহজেই বের করা যাবে যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।

এই ব্যবস্থা নির্বাচন-উত্তর পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও পেশাগত জীবনে বৈষম্যের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। বিশেষ করে যদি কোনো দল ক্ষমতায় আসে এবং পোস্টাল ভোটের ফলাফল তাদের প্রত্যাশার বিপরীতে যায়, তাহলে সেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চাপ বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আহমেদ কামাল বলেন, “প্রবাসী ভোটারদের ব্যালটে নম্বর না রাখা এবং সরকারি কর্মচারীদের ব্যালটে নম্বর রাখার এই দ্বৈত নীতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।

একদিকে কারচুপির সুবিধা, অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের নিরাপত্তাহীনতা—দুটোই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।”

নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, প্রবাসী ব্যালটের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষার জন্য নম্বর না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কোন গোপনীয়তা না রেখে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতার কারণে নম্বর রাখা হয়েছে।

 

এই ব্যাখ্যা অনেকের কাছে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না। এদিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা দাবি করছেন যে, পোস্টাল ভোটের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রয়োগ না করলে নির্বাচনের সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হবে। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ভোটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য এবং সরকারি কর্মচারীদের পোস্টাল ভোটও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দুই গ্রুপের ভোট কীভাবে গণনা ও সংরক্ষণ করা হবে, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

Visited 8 times, 1 visit(s) today