“ফলাফল সব সময় প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে”: ব্লুমবার্গকে সজীব ওয়াজেদ

“ফলাফল সব সময় প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে”: ব্লুমবার্গকে সজীব ওয়াজেদ
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সমাধান করবে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা সজীব ওয়াজেদ জয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফোনে ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের নির্বাচন “কখনোই বিশ্বাসযোগ্য হবে না” এবং এর ফলাফল “সব সময় প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাবে”।

সজীব ওয়াজেদ বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দলটি তাদের সমর্থকদের ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে, কারণ এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর ভাষায়, “অতীতে আওয়ামী লীগ অন্তত ৩০ শতাংশ জনপ্রিয় ভোট পেয়েছে। এই সপ্তাহে আমাদের সমর্থকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে যে নির্বাচন হচ্ছে, তার ফলাফল গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন মোকাবিলায় কিছু ভুল করেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিকে তিনি “বৈধ” বলে স্বীকার করেন—যা আওয়ামী লীগের কোনো শীর্ষ নেতার কাছ থেকে বিরল স্বীকারোক্তি। পাশাপাশি তিনি বলেন, “আমরা সত্যিই, সত্যিই জনগণের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়েছিলাম।” এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু বিরোধী শক্তি সরকার উৎখাত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সজীব ওয়াজেদ বলেন, “মানুষ ইতিমধ্যেই স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মিস করছে।” তাঁর মতে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার এলেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলো একটি ইসলামপন্থী এজেন্ডা এগিয়ে নিচ্ছে, যা নারীদের অধিকার সীমিত করবে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়াবে।

তিনি বলেন, “অর্থনীতি উন্নত হবে না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও উন্নত হবে না। বিশেষ করে একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের পর মানুষ খুব দ্রুত বিরক্ত হয়ে পড়বে।”

সজীব ওয়াজেদ আরও জানান, তিনি নিজে নিকট ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে নামার পরিকল্পনা করছেন না। তবে আওয়ামী লীগ ইউরোপের বিভিন্ন সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যাতে তারা বাংলাদেশে ইসলামি মৌলবাদের হুমকি সম্পর্কে সচেতন হন।

শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন এবং “খুব ভালো স্বাস্থ্যে” রয়েছেন। ভারত সরকার তাঁকে নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং যতদিন তিনি চান ততদিন সেখানে থাকার সুযোগ দিচ্ছে। সজীব ওয়াজেদের ভাষায়, “এই দিক থেকে দেখলে, ভারতের চেয়ে ভালো জায়গা তাঁর জন্য আর হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশে দলের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন—যাদের কেউ কেউ আত্মগোপনে আছেন বা কারাগারে রয়েছেন। “তিনি সারাক্ষণ ফোনেই ব্যস্ত থাকেন,” বলেন সজীব ওয়াজেদ।

Visited 20 times, 1 visit(s) today