নিপাহ ভাইরাসে সাম্প্রতিক ৫ মৃত্যুঃ জনসমাগম এড়িয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ ডব্লিউএইচও’র

নিপাহ ভাইরাসে সাম্প্রতিক ৫ মৃত্যুঃ জনসমাগম এড়িয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ ডব্লিউএইচও’র
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশে নির্বাচনী আমেজ তুঙ্গে। লাখ লাখ মানুষ প্রচারণায় ব্যস্ত, বিভিন্ন জেলায় ভ্রমণ করছেন, জনসভা-মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। এই মুহূর্তে নিপাহ ভাইরাসের ২০২৫ এর শেষ থেকে এ পর্যন্ত ৫ জনের নিশ্চিত মৃত্যুর খবর স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো করে তুলেছে।

 

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসে ১ জন আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এটি চলতি বছরের প্রথম নিশ্চিত কেস। নওগাঁ জেলার ৪০-৫০ বছর বয়সী এক নারী গত ২১ জানুয়ারি থেকে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, খিঁচুনি, অসংলগ্ন আচরণসহ উপসর্গ দেখা দিলে ২৮ জানুয়ারি মারা যান। পরীক্ষায় নিপাহ ভাইরাস নিশ্চিত হয়। তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করতেন—যা সংক্রমণের প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে ২০২৫ সালের শেষের দিকে ৪ জন আক্রান্ত হয়ে সবাই মারা যান।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বর্তমানে কোনো নতুন কেস শনাক্ত হয়নি। রোগীর সংস্পর্শে থাকা ৩৫ জনের পরীক্ষায় নেগেটিভ ফলাফল এসেছে। আন্তর্জাতিকভাবে ছড়ানোর ঝুঁকি কম। শীতকালীন মৌসুম (ডিসেম্বর-এপ্রিল) নিপাহ ভাইরাস সংক্রামনের সবচেয়ে উপযুক্ত পরিবেশ থাকে। ডব্লিউএইচ পরামর্শ মতে এই সময়ে জনসমাগম এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

 

নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটদানের সময় প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি কতটা?

নির্বাচনী কার্যক্রমে জনসমাগম, ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, বিভিন্ন জেলায় (বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নওগাঁ, রাজশাহী, ফরিদপুর, লালমনিরহাটসহ) সহ বিভিন্ন এলাকায় ভোট দিতে জনসংখ্যা স্থানান্তর বেড়ে যায়। এই সময়ে অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা স্থানান্তরের কারনে ভাইরাস সংক্রমন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধমূলক ব্যাবস্থা হতে পারে।

নিপাহ ভাইরাস মূলত কাঁচা খেজুরের রস (বাদুড়-দূষিত) পানের মাধ্যমে ছড়ায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে (লালা, শ্বাস-প্রশ্বাস) মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ছড়ায়।

যদিও বর্তমানে বড় আউটব্রেক এর কোন শঙ্কা নেই, তবু নির্বাচনের ভিড়ে যদি কোনো লুকানো সংক্রামন থাকে তাহলে স্থানীয়ভাবে ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়তে পারে। প্রচারণায় স্থানীয় খাবার গ্রহণ, হাত মেলানো, জনসভায় ঘনিষ্ঠতা—এসব ঝুঁকি বাড়াতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সময় সতর্কতা না নিলে ছোট সংক্রমণও দ্রুত ছড়াতে পারে।

 

সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সতর্কতা (নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটদানের জন্য বিশেষভাবে)

  • কাঁচা খেজুরের রস একেবারে পান করবেন না — প্রচারণায় গিয়ে স্থানীয় লোকজনের দেওয়া তাজা রস এড়িয়ে চলুন। বোতলজাত পানি বা প্যাকেটজাত পানীয় ব্যবহার করুন।
  • বাদুড়-দূষিত ফল/খাবার এড়িয়ে চলুন — গাছ থেকে পড়া ফল, বাদুড়ে কামড়ানো ফল খাবেন না। খোলা জায়গায় খাবার রাখবেন না।
  • হাত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন — জনসভা, হাত মেলানো, পোস্টার লাগানোর পর ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। মুখ-চোখ স্পর্শ করবেন না।
  • সন্দেহজনক উপসর্গ দেখলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা — জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি, খিঁচুনি, বিভ্রান্তি দেখা দিলে দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দূরত্ব রাখুন এবং নিকটস্থ হাসপাতালে যান। সেবা দেওয়ার সময় মাস্ক-গ্লাভস ব্যবহার করুন।
  • ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা — নওগাঁ, রাজশাহী, ফরিদপুরসহ ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় গেলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ নিন। সচেতনতা বাড়ানোর জন্য দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ তথ্য শেয়ার করুন।
  • জনসভায় সচেতনতা ছড়ান — মাইকে বা বক্তৃতায় কাঁচা রস না খাওয়া, হাত ধোয়ার কথা বলুন।

মনে রাখবেনঃ

নিপাহ ভাইরাসের কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই
প্রতিরোধই একমাত্র পথ।

নির্বাচনী উৎসাহের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিন, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে। সন্দেহ হলে আইইডিসিআর বা স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ করুন।

 

Visited 7 times, 1 visit(s) today