মব হামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রিপনের গ্রেপ্তার ও কারা হেফাজতে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ আওয়ামী লীগের

মব হামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রিপনের গ্রেপ্তার ও কারা হেফাজতে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ আওয়ামী লীগের
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

মবসন্ত্রাসের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপনকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার এবং কারা হেফাজতে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

দলের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, অবৈধ দখলদার ও খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গং আইনের শাসনের পরিবর্তে সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। নাগরিক অধিকার তো দূরের কথা, স্বাভাবিক জীবনযাপনও আজ সুদূরপরাহত। বর্তমান বাংলাদেশে অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে, যেখানে বল প্রয়োগই শেষ কথা। আইনের শাসন ও মানবাধিকার কার্যত নির্বাসিত।

নির্যাতনের পর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি রিপনকে পুলিশে দিলো বিএনপির মব সন্ত্রাসীরা

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মবসন্ত্রাসের মাধ্যমে একজন নাগরিককে নির্মমভাবে আক্রমণ করে মারাত্মকভাবে আহত করার পর তাকে রক্ষা করার পরিবর্তে পুলিশ বাহিনীর কিছু নির্লজ্জ সদস্য তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

সর্বশেষ ঘটনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপনকে মবসন্ত্রাসীরা বেদম প্রহার করে। এমনকি পুলিশ ভ্যানে তোলার পরও চলচ্চিত্রের দৃশ্যের মতো করে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ধরনের ঘটনা এখন দেশের নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে কারাগারের তথাকথিত নিরাপদ প্রকোষ্ঠে একের পর এক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।

সম্প্রতি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. দুলাল মিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতা হুমায়ুন কবিরসহ একাধিক ব্যক্তিকে কারা হেফাজতে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এসব ঘটনা যে কোনো বিবেকবান মানুষ ও সভ্য সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিলেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আওয়ামী লীগ জানায়, এই পাশবিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলো আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার চরম ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে কিংবা কারা হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তার দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ফল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল মবসন্ত্রাসী, দায়ী পুলিশ সদস্য এবং কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে ন্যায়বিচার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোর দাবি জানানো হয়।

আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে, ইউনূস গং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে বিভেদের ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছে। এমনকি অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক সমর্থনপুষ্ট দলগুলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে দমন-পীড়ন ও জবরদস্তিমূলক আচরণের মাধ্যমে জনগণের বৃহৎ অংশকে নির্বাচনের বাইরে রাখলে গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হবে বলে সতর্ক করে দলটি।

সবশেষে বিবৃতিতে দেশপ্রেমিক সকল জনগণকে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

কারা হেফাজতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিভিন্ন তথ্য এখানে

Visited 17 times, 1 visit(s) today