গণভোটে ইউনূস প্রশাসনের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার বিপরীতে সশস্ত্র বাহিনীর নিরপেক্ষ প্রচারণা

গণভোটে ইউনূস প্রশাসনের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার বিপরীতে সশস্ত্র বাহিনীর নিরপেক্ষ প্রচারণা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এই প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। কিন্তু এই প্রচারণার মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী—বিশেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী—সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সেনাবাহিনী সম্প্রতি একটি টিভিসি (টেলিভিশন কমার্শিয়াল) প্রকাশ করেছে, যার স্লোগান “আপনার অপেক্ষায় আপনার দেশ”। এই টিজারে দেখানো হয়েছে—নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা সাধারণ মানুষ সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখে ভোট দিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এতে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের প্রতি সমর্থন নেই; বরং ভোটারদের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে, বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে পোস্ট করেছে:

“আপনার ভোট আপনার অধিকার, গণতন্ত্রকে করুন শক্তিশালী। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সদা তৎপর বাংলাদেশ নৌবাহিনী—আপনার পাশে, আপনার আস্থায়।”

এই দুটি বার্তাই স্পষ্টভাবে নিরপেক্ষ—কোনো ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে নয়, শুধুমাত্র নিরাপদ ও অংশগ্রহণমূলক ভোটের আহ্বান জানানো হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন যে,

“কি মার্কায় ভোট দেওয়া উচিত সেটা যদি সরকারই সবার ঘরে ঘরে গিয়ে বলে দেয়, তখন বোঝাই যায় এই পক্ষালম্বনে কোনো দুরভিসন্ধি আছে।”

একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, সকল পক্ষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন/গণভোটকে অবাধ ও সুষ্ঠু করা। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্রচারে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নিরপেক্ষতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

যখন সরকার নিজেই একপক্ষের প্রচারণায় লিপ্ত হয়, তখন সাধারণ ভোটারের মনে প্রশ্ন জাগে—এই গণভোট কি সত্যিকার অর্থে জনমতের প্রতিফলন হবে, নাকি রাষ্ট্রীয় প্রভাবে একতরফা ফলাফলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক মানদণ্ড অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

সশস্ত্র বাহিনীর এই নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য আশার আলো। এটি প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভগুলো এখনও সাংবিধানিক দায়িত্ব ও নিরপেক্ষতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। আশা করা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন এই সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের অবস্থান সংশোধন করবে এবং সত্যিকারের নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

ভোটারদের প্রতি আহ্বান—আপনার ভোট আপনার অধিকার। চাপ বা প্রচারণার কাছে নতি স্বীকার না করে নিজের বিবেক অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন। গণতন্ত্র শক্তিশালী হোক স্বাধীন ইচ্ছার মাধ্যমে, রাষ্ট্রীয় চাপের মাধ্যমে নয়।

 

Visited 15 times, 1 visit(s) today