নিজস্ব প্রতিবেদক
এলপিজি সিলিন্ডার (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আজ বৃহস্পতিবার থেকে বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। এই সুযোগে খুচরো বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে নিয়েছেন বহুগুণ।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় সারাদেশেই দাম বেড়ে গেছে। এদিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা নিয়েছে সমিতি।
সম্প্রতি ইউনূস সরকারের উদাসীনতায় এবং অব্যস্থাপনায় সারাদেশেই এলপিজির দাম বেড়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে এখনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। গতকালের ঘোষণায় কোম্পানির প্ল্যান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ থাকার কথা জানিয়েছে উৎপাদনকারীরা।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। বেলা তিনটায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দাবি মানা হলে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি শুরু হবে। আর না হলে বিক্রি বন্ধ থাকবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই ঘোষণার পর খুচরো বিক্রেতারা দুই হাজার থেকে ২২শ টাকা করে রাখছেন ১২ কেজি গ্যাসের দাম। কোথাও কোথাও ২৫শ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে- এমন চিত্রের দেখা মিলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এর আগে বুধবার সকালে কমিশন বৃদ্ধি, জরিমানা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। দাবি না মানলে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিপণন বন্ধের হুমকি দিয়েছিল সংগঠনটি।
এদিকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, এলপিজি পরিবেশক আমাদের লাইসেন্সি (আমদানিকারক) না হওয়ায় আইনিভাবে তাদের দাবি আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমদানিকারকরা প্রস্তাব করলে যাচাই-বাছাই শেষে গণশুনানি করে তারপর সিদ্ধান্ত দিতে হবে। গণশুনানিতে তাদের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে।
বর্তমানে দেশে এলপিজির সংকট চলছে। ২৭টি কোম্পানির সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডার বাজারজাত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল (পুনরায় গ্যাস ভরা) হচ্ছে। তার মানে বাকি ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে। এ কারণেই জটিলতা বেড়েছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের বলেন, এলপিজির ঘাটতি নেই। বাজারে যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা মূলত কারসাজির ফল। বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কাজ করছে। বিভিন্ন জায়গায় জরিমানাও করা হচ্ছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা জিম্মি করতে চাচ্ছেন ভোক্তাদের।
