৬ মাসে ২৬ দেশে কমল পোশাক রপ্তানি: নন-কম্পলায়েন্স কারখানা বন্ধে ইউনূস সরকারের সাফল্য!

৬ মাসে ২৬ দেশে কমল পোশাক রপ্তানি: নন-কম্পলায়েন্স কারখানা বন্ধে ইউনূস সরকারের সাফল্য!
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রধান পোশাক খাত এখন চরম সংকটে। ইউনূস সরকারের ম্যাজিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত), ২৬টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি চরমভাবে হ্রাস পেয়েছে। এটা রপ্তানির জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। ইউনূস সরকারে প্রিয় দেশগুলো ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজারগুলোতেও এই প্রভাব পড়েছে।

বন্দর, তথ্যপ্রযুক্তিখাত বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়েও ইউনূস সরকার পোশাক রপ্তানি বাড়াতে পারছেনা। উল্টো প্রতিনিয়তই কমছে পোশাকখাতের রপ্তানি।

নতুন বাজারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, চিলি, ভারত, জাপান, কোরিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, তুরস্ক এবং অন্যান্য দেশে রপ্তানি কমেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে। বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, চেক, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া এবং সুইডেন রপ্তানি আশঙ্কাজনক কমেছে।

শুধু ইউরোপ নয় যুক্তরাষ্ট্রেও রপ্তানি হ্রাস (-০.১০%)। এই হ্রাস পাওয়া বড় বাজারের জন্য সতর্কবার্তা।

উল্লেখ্য, শুধু ২৬টি দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কেনা কমায়নি, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫), রপ্তানি প্রত্যাশিত গতিতে বৃদ্ধি পায়নি। বরং কমেছে প্রতিদিন।

রপ্তানি উন্নয়ন সংস্থা এবং বাংলাদেশ পোশাক ব্যবসায়ি সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে ১৯,৩৬৫ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৬৩ শতাংশ কম।

সংশ্লিষ্টরা মনে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, ক্রেতাদের ব্যয় সংকোচন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং দাম কমানোর চাপ সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তাছাড়া বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতাও বড় কারণ। অনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে রপ্তানিকারকরা কাজ করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। যে কারণে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শ্রম বাজার এবং রপ্তানিকারকদের আয় সবকিছুর ওপর বিশাল প্রভাব পড়ছে।’

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জুলাই-ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ইইউতে রপ্তানি হয়েছে ৯,৪৫৯ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেক। তবে আগের বছরের একই সময়ে তুলনায় রপ্তানি আয় ৪.১৪ শতাংশ কমেছে। বড় বাজারগুলোর মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও বেলজিয়ামে রপ্তানির পতন কম লক্ষ্য করা গেছে।

বিশেষ করে জার্মানি: ২৪৬৮ থেকে ২১৮৭ মিলিয়ন (-১১.৪ শতাংশ), ফ্রান্স: ১০৯১ থেকে ৯৭২ মিলিয়ন (-১০.৮৯ শতাংশ), ডেনমার্ক: ৫৫৭ থেকে ৪৯৮ মিলিয়ন (-১০.৫৪ শতাংশ), বেলজিয়াম: ২৯৫ থেকে ২৬৮ মিলিয়ন (-৯.২২ শতাংশ)। তবে সব দেশে পতন হয়নি।

কিছু বাজারে উল্টো বাড়তি রপ্তানিও দেখা গেছে। যেমন- স্পেন: ১৬৯৯ থেকে ১৮০৪ মিলিয়ন (+৬.১৮ শতাংশ), নেদারল্যান্ডস: ১০৫৭ থেকে ১০৭৭ মিলিয়ন (+১.৮৫ শতাংশ), পোল্যান্ড: ৭৯০ থেকে ৮৬৪ মিলিয়ন (+৯.৪৩ শতাংশ)।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। জুলাই-ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে রপ্তানি হয়েছে ৩,৮৩৯ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৯.৮২ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি প্রায় ০.১০ শতাংশ কম। নিট পোশাকে সামান্য বৃদ্ধি থাকলেও উভেন পোশাকে হ্রাসের কারণে মোট রপ্তানি আয় কমেছে

নতুন বাজারেও রপ্তানির পতনে ধাক্ষা লক্ষ্য করা গেছে। এই বাজারগুলোতে চাহিদা বেশি ভিন্ন এবং ক্রেতাদের মনোভাব অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নতুন বাজারে জুলাই-ডিসেম্বরে রপ্তানি হয়েছে ৩,১৮৫ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ১৬.৪৫ শতাংশ। তবে আগের বছরের তুলনায় কমেছে ৫.৫২ শতাংশ।

রাশিয়া: ১৪৯ থেকে ১০৯ মিলিয়ন (-২৬.৬৩ শতাংশ), তুরস্ক: ২২৩ থেকে ১৬৫ মিলিয়ন (-২৫.৮০ শতাংশ), মেক্সিকো: ১৮৪ থেকে ১৫০ মিলিয়ন (-১৮.৬৬ শতাংশ), কোরিয়া: ২৩১ থেকে ২০১ মিলিয়ন (-১২.৮৪ শতাংশ), ভারত: ৩৭৬ থেকে ৩৩৭ মিলিয়ন (-১০.৪৪ শতাংশ)।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক দুই ভাগে বিভক্ত: নিট ও উভেন। ইউরোপীয় বাজারে নিট পণ্যের অর্ডার কমে যাওয়ায় সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল মালিক সমিতি (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত কয়েক মাস ধরে আমাদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও, যেখানে আমাদের রপ্তানি উল্লেযোগ্যভাবে ধাক্কা খাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ভারত ও চীনসহ যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কের কারণে ওই বাজারে রপ্তানি করতে পারছে না, তারা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে অর্ডার নেয়ার জন্য মূল্য কমিয়ে প্রতিযোগিতা করছে।

ফলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা একই ধরনের পণ্যের অর্ডার নিতে পারছেন না। তবে ভারত সরকার তাদের ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন প্যাকেজ সহায়তা দিচ্ছে। সম্প্রতি তারা ৭ হাজার কোটি রুপির নতুন সহায়তা অনুমোদন করেছে। কিন্তু আমাদের এখানে এমন কিছু নেই। বরং আমাদের সরকার আইএমএফ কর্মসূচি ও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের যুক্তি দেখিয়ে রপ্তানি খাতের নগদ সহায়তা এবং অন্যান্য সুবিধা প্রত্যাহার করেছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বিশ্ববাজারে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি মন্দা দেখা দিয়েছে।

Visited 20 times, 1 visit(s) today