বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর গুপ্ত সংগঠন খ্যাত শিবিরের একচেটিয়া প্রাধান্য এখন স্পষ্ট। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে শিবির-সমর্থিত প্যানেলগুলো অধিকাংশ পদ দখল করে নিয়েছে, যা ছাত্ররাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সর্বশেষ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতে জয়লাভ করেছে। সহসভাপতি (ভিপি) পদে রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে আবদুল আলীম আরিফ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মাসুদ রানা নির্বাচিত হয়েছেন। এই নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল মাত্র ৪টি পদ পেয়েছে, যা তাদের জন্য বড় ধাক্কা।
এর আগে ২০২৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাকসু) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও শিবির-সমর্থিত প্যানেলগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে জয়ী হয়। ডাকসুতে ২৮টি পদের ২৩টি, জাকসুতে ২৫টির ২০টি, রাকসুতে ২৩টির ২০টি এবং চট্টগ্রামে অধিকাংশ পদ শিবিরের দখলে যায়।
রাকসুতে জিএস পদটি ব্যতিক্রম হলেও সেখানে সাবেক ছাত্র আন্দোলনের নেতা সালাহউদ্দিন আম্মার জয়ী হন, যা শিবিরের প্রভাবকে আরও জোরদার করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০২৪-এর দাঙ্গার পর আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা এবং ক্যাম্পাসে তাদের অনুপস্থিতি গুপ্ত সংগঠন শিবিরের উত্থানের অন্যতম কারণ। শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি, শিক্ষার্থীদের ভেতরে সুকৌশলে ঢুকে পড়া এবং অন্যান্য সংগঠনের দুর্বলতা তাদের অবস্থান শক্ত করেছে।
তবে প্রগতিশীল রাজনীতি সম্পৃক্তরা একে প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্ররাজনীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান জকসু নির্বাচনের ফলাফলে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এটি শিক্ষার্থীদের রায়। তবে প্রগতিশীল ও জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা এই প্রাধান্যকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনগুলো নির্বাচনগুলোকে সুষ্ঠু বলে দাবি করলেও কিছু অভিযোগ উঠেছে। তবে সামগ্রিকভাবে এই ফলাফল ছাত্ররাজনীতিতে নতুন শক্তির উত্থান নিশ্চিত করেছে। ভবিষ্যতে এই প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হবে কি না, তা সময়ই বলবে।
