বিশেষ প্রতিবেদক
ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ – ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আজ সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় এসেছিলেন। এই সফরে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ দলের স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতে রাজী হননি জয়শঙ্কর।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাতের জন্য জয়শঙ্করের কাছে সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
যদিও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সাথে সাক্ষাত করে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান কুশলাদি বিনিময় করেন। এর পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জয়শঙ্করকে যমুনায় আমন্ত্রন জানান।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৭ মসেএ শাসনামলে জয়শঙ্কর একমাত্র বিদেশী অতিথি যিনি বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধান উপদেষ্টা ড ইউনুসের সাথে দেখা করতে
জয়শঙ্করের চার ঘণ্টার এই সফরে তিনি শুধু খালেদা জিয়ার পরিবার ও বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে শোক প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত চিঠি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন।
এদিকে পাকিস্থানের উপ-প্রধানমন্ত্রী প্রেস উয়িং এর আমন্ত্রনে সাড়া দিয়ে যমুনায় পৌছে প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাত করেন। উক্ত সাক্ষাতে পাকিস্থানের হাই কমিশনার ও পাকিস্থানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গিরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লামিয়া মোর্শেদ ও প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
জয়শঙ্কর ঢাকায় পৌঁছানোর পরপরই তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি খালেদা জিয়ার গণতন্ত্রে অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার আশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাত না হওয়ায় কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুটা উত্তেজনা রয়েছে। জয়শঙ্করের এই সফরকে অনেকে ভারতের বিএনপি-ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, যদিও ভারতীয় কর্মকর্তারা এটিকে শুধু শোক প্রকাশের সফর বলে বর্ণনা করেছেন।
খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে এবং বিদেশি অতিথিদের মধ্যে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকারও উপস্থিত ছিলেন। জয়শঙ্কর তাঁর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতার প্রতীক বলে উল্লেখ করলেও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাত না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কোন দিকে যায়, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে।

