নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্ম নেওয়া ‘পুতুল’ নামের এক কিশোরী পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন—তিনি খালেদা জিয়া।
জন্মভূমি ভারত হলেও তার শৈশব, শিক্ষা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের মূল পর্ব কেটেছে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের দিনাজপুরে। এই পথচলাই তাকে নিয়ে গেছে দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বে।
১৯৪৫ সালে ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। বাবা ইস্কান্দর মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী।
মায়ের বক্তব্য অনুসারী তার জন্ম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরদিন অর্থাৎ ৫ সেপ্টম্বর, যদিও প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯১ সালে শপথ নেওয়ার সময় সরকারি বার্তা সংস্থা ছিল ৫ আগস্ট।
এরপর ১৯৯৩ সাল থেকে তিনি ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করতেন।
শৈশবে তার নাম ছিল খালেদা খানম পুতুল যদিও বিয়ের পরে বেগম খালেদা জিয়া নামেই সমাধিক পরিচিতি পান।
সেখানেই শৈশবের বেশ কয়েকটা বছর কেটেছিল তার। খালেদার চিরবিদায়ে তাই শোক জলপাইগুড়িতে।
খালেদার প্রতিবেশী ছিলেন জলপাইগুড়ির ভোলা মণ্ডল। যার বাড়ির উল্টোদিকে জমিতেই ১৯৪৫ সালে জন্ম হয়েছিল খালেদার। ভোলা মন্ডলের মায়ের কোলেই তার বেড়ে ওঠা। মঙ্গলবার খালেদার মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর সেইসব স্মৃতিকথাই দিল্লি-ভিত্তিক এএনআই বার্তা সংস্থায় বর্ণনা করেছেন শোকার্ত ভোলা মন্ডল।
ভোলা মণ্ডল বর্তমানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, “আমাদের খুব দুঃখ লাগছে। সকালবেলা আমি শুনলাম খালেদা জিয়া আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। মানুষের মৃত্যুই আমাদের কাছে খুব দুঃখজনক। সেই হিসাবে আমি খুব দুঃখ পেয়েছি।”
ভোলা জানান, তার মায়ের কোলে পিঠে বড় হয়েছেন খালেদা। দেশ ভাগের পর খালেদার পরিবার অমরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পরিবারের সঙ্গে সম্পত্তি বিনিময় করে বাংলাদেশে চলে যায়। তখন থেকে বাড়িটিতে চক্রবর্তী পরিবারই থাকে। তবে বাংলাদেশে চলে গেলেও ভিটে দেখতে খালেদার আত্মীয়-স্বজনদের এখনও নিয়মিত জলপাইগুড়িতে যাতায়াত রয়েছে।
প্রবীণদের কথা থেকে জানা যায়, জলপাইগুড়িতেই স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন খালেদা। দিনাজপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি সদর গার্লস স্কুল ও পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি।
ছোটবেলার আদরের নাম ছিল ‘পুতুল’। জলপাইগুড়ি শহরে ব্যাঙ্কিং এবং শেয়ার কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ‘দাশ অ্যান্ড কোম্পানি’তে কাজ করতেন খালেদা জিয়ার বাবা মহম্মদ ইসকান্দর।
দেশভাগের সময় সপরিবারে বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
পরবর্তীতে দিনাজপুরে থাকা অবস্থাতেই ১৯৬০ সালে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সাথে তার বিয়ে হয়।
১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে ১৯৮২ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
এরপর ১৯৮৩ সালে ভাইস চেয়ারপরসন ও ৮৪ সালে চেয়ারপরসন মনোনীত হন।
সামরিক শাসন, রাজনৈতিক সংঘাত ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তিনি বিএনপির নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এরপর আরও দুই মেয়াদে তিনি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
৯৬ সালে প্রাধানমন্ত্রী হিসেবে আড়াই মাস পরে তীব্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
এরপর ২০০১ সালে তৃতীয় মেয়াদে তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
