নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫: আবহমান বাংলা সংস্কৃতির ওপর সাম্প্রতিক সহিংস হামলার প্রতিবাদে গানে গানে সংহতি প্রকাশ করেছে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। মঙ্গলবার বিকেলে ধানমন্ডির শংকরে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের সামনে আয়োজিত ‘গানে গানে সংহতি সমাবেশে’ শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমী নাগরিকরা সমবেত কণ্ঠে গেয়ে ওঠেন মুক্তি সংগ্রামের অনুপ্রেরণাদায়ক গান।
সমাবেশে ছায়ানটের শিল্পীরা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ও আমার দেশের মাটি’, ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’; কাজী নজরুল ইসলামের ‘চল চল চল’, ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম’, ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি’; লালন ফকিরের ‘মানুষ ছাড়া খ্যাপা রে তুই মূল হারাবি’; শাহ আব্দুল করিমের ‘গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান’; সলিল চৌধুরী, আপেল মাহমুদ, গুরুসদয় দত্ত ও সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত প্রতিবাদী গানসহ একাধিক কালজয়ী সুর।
এই গানগুলো বাঙালির জাতিসত্তা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে সমাবেশে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে।
সম্প্রতি ছায়ানট ভবন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং দেশের বিভিন্ন বাউল আখড়ায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। শিল্পী কৃষ্ণকলি ইসলাম বলেন, “অন্ধকারের অপশক্তি আমাদের গানের ভালোবাসার মন্ত্রকে ভয় পায়। আগুন লাগালেও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয় না, কারণ এর সঙ্গে জড়িত সাধারণ মানুষ।”
সমাবেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছায়ানটের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, এই হামলাগুলো বাঙালি জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত। গণমাধ্যমের ওপর বেপরোয়া আক্রমণ এবং নিরপরাধ নাগরিক হত্যা দেশের নিরাপত্তা বিপন্ন করছে। এমন প্রেক্ষাপটে নাগরিক সমাজকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সক্রিয় উদ্যোগ নিয়ে সংস্কৃতি সুরক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।সমাবেশে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যোগ দিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। এই প্রতিবাদী কর্মসূচি বাংলা সংস্কৃতির অসুর দমনের প্রত্যয়কে নতুন করে জাগরুক করেছে।
