‘এসএসএফ নিরাপত্তা’ না পাওয়ায় কি দেশে ফিরতে ‘ভয়’ তারেক রহমানের?

‘এসএসএফ নিরাপত্তা’ না পাওয়ায় কি দেশে ফিরতে ‘ভয়’ তারেক রহমানের?
শেয়ার করুন

অজয় বাঙালী, বিশেষ প্রতিবেদক

এভারকেয়ার হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ভিভিআইপি ঘোষণা করে এসএসএফের নিরাপত্তা দেওয়া হলেও তারেক রহমানকে কোনো নিরাপত্তা সুবিধা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তারেক রহমান দেশে ফিরলে কি তিনি একই নিরাপত্তা পাবেন? নাকি নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কাই তার দেশে ফেরাকে অনিশ্চিত করে রেখেছে?

উইকিলিক্সের ফাঁস হওয়া বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র তারেক রহমানের প্রতি বিরূপ মনোভাবের কথা উল্লেখ করেছিল এবং তাকে নাগরিকত্ব না দেওয়ার অনুরোধ যুক্তরাজ্যকে জানায়—সম্প্রতি এই তথ্য আবার আলোচনায় এসেছে।

এদিকে বিএনপির প্রধান আন্তর্জাতিক মিত্র হিসেবে বিবেচিত পাকিস্তান এখন জামায়াতের দিকে ঝুঁকছে—এ অভিযোগও রাজনৈতিক মহলে উঠেছে। একইভাবে জামায়াতপন্থী অবস্থানের কারণে তুরস্ক ও কাতার পাকিস্তানের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মন্তব্য।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক মনে করেন, একসময়কার মিত্রদেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাই এখন তারেক রহমানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, “গুলশানের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে কাতার–তুরস্কের নিরাপত্তা সংস্থার গোপন আস্তানা ও যন্ত্রপাতি উদ্ধার হয়েছে—এসব সরঞ্জাম বিএনপি ও তারেক রহমানের গতিবিধি নজরদারিতে ব্যবহার হচ্ছিল।”

তার মতে, “হুমকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের দিক থেকে নয়, বরং কাতার–তুরস্কের পক্ষ থেকেই বেশি।”

ব্রিটেনের নাগরিকত্ব না পাওয়ায় দেশটিও ছাড়তে পারছেন না তারেক রহমান। দেশ ছাড়লে বাতিল হবে তার ‘রিফিউজি স্ট্যাটাস’। অন্যদিকে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে রয়েছে নিরাপত্তা উদ্বেগ—ফলে তিনি উভয় সংকটে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের একজন দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন—তারেক রহমান বাংলাদেশের পাসপোর্ট নেই এবং নতুন পাসপোর্টের আবেদনও করেননি। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে, তারেক রহমানের নাম বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় নেই।

তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, “দেশে ফিরতে চাইলে একদিনেই ট্রাভেল পাস দেওয়া সম্ভব।”

বিএনপি স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণেই জোবাইদা রহমান দেশে এসেছেন। তার অভিযোগ, “দলের ভেতরের একটি অংশও ম্যাডামকে হঠাৎ অসুস্থ করার পেছনে দায়ী। তার ২১শে নভেম্বর সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল না।”

বিএনপি চেয়ারপার্সনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর জানিয়েছেন—তারেক রহমান দেশে এলে এসএসএফ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, পরিবার সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও একই নিরাপত্তা সুবিধা স্বাভাবিকভাবে প্রযোজ্য।

তবে তারেক রহমান এসএসএফ নিরাপত্তা পাবেন না বলে এরইমধ্যে জানিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা চৌধুরী।

গত সপ্তাহে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শেষে উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা বিবেচনায় তাকে ভিভিআইপি ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মতো তার নিরাপত্তায় এসএসএফ মোতায়েন করা হয়। এসএসএফ অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয়ভাবে ভিভিআইপি ঘোষিত ব্যক্তির নিরাপত্তায় এসএসএফ দায়িত্ব পালন করে থাকে।

২৯শে নভেম্বর ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লিখেছিলেন—দেশে ফেরা ‘একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’। তবে সোমবার রাতে বিএনপির বৈঠকের পর মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন।

দলের বিভিন্ন বক্তব্যে ধারণা তৈরি হয়েছে—জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশে ফিরতে পারেন তারেক রহমান।

ভিভিআইপি বিতর্ক ও আইনগত কাঠামো

দেশে ভিভিআইপি, ভিআইপি ও সিআইপি—এ তিন ধরনের শ্রেণি রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ডিফল্ট ভিভিআইপি। তবে সরকার চাইলে অন্য কাউকেও ভিভিআইপি ঘোষণা করতে পারে।

২০১৯ সালের এক রায়ে হাইকোর্ট মন্তব্য করেছিল—শুধু রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ভিভিআইপি। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, আইনে সরকারের অন্য কাউকে ভিভিআইপি ঘোষণার এখতিয়ার রয়েছে।

Visited 15 times, 1 visit(s) today