জেলা প্রতিনিধি
নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে জামায়াত ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষজন আছেন আতঙ্কে।
গতকাল সন্ধ্যায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের বেশিরভাগই জামায়াতের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আমজাদ হোসাইন সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার পর থেকে তাদের সংগঠনের তিন নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তবে বিএনপি জানিয়েছে জামায়াতই উল্টো তাদের ওপর হামলা করেছে। এতে বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
গতরাত ৯টার দিকে নরসিংদী শহরের ব্রাহ্মন্দী এলাকায় জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
বুধবার সন্ধ্যায় মেহেরপাড়া ইউনিয়নের শেখেরচর বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত জনসভায় তাঁতীদল নেতা বখতিয়ার হোসেনের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে রাত ৮টার দিকে জেলা শহর ও পলাশে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত শিবির।
অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন বিএনপি দাবি করেছে উল্টো জামায়াতের লোকজনের হামলায় তাদের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। জামায়াতই উস্কানি দিয়ে হামলা করেছে।
তবে পুলিশ বলছে, জামায়াত ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী আমজাদ হোসাইন বলেন, শুরু থেকেই বিএনপির কিছু নেতাকর্মী সভা পণ্ড করার চেষ্টা করছিলেন। তার বক্তব্য চলাকালে মঞ্চের পেছনে গিয়ে তারা অশালীন আচরণ ও গালাগাল করেন। পরে স্থানীয়দের চাপে সরে গেলেও সভা শেষে ৭০-৮০ জন বিএনপি নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ৩০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ৭ জনকে ঢাকায় পাঠাতে হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, তাঁতীদলের নেতা বখতিয়ার হোসেন, যুবদল নেতা ইফতিখার আলম, শাহরিয়ার, সিয়ামসহ কমপক্ষে ৪০ জন এই হামলায় অংশ নেন। এছাড়া পুলিশের কাছে আগাম নিরাপত্তা চাইলেও মাধবদী থানা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, মেহেরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ মিয়া জানান, জামায়াতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং জামায়াতের হামলায় বখতিয়ারসহ পাঁচজন বিএনপি নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
মাধবদী থানার ওসি নজরু ইসলাম বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। কতজন আহত হয়েছেন, তা এখনো জানা যায়নি। দুই পক্ষই অভিযোগ করতে চেয়েছেন; লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
