সেই ওসি মাইনুলের বদলিতে উচ্ছ্বসিত জাজিরাবাসী, গ্রেপ্তার বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

সেই ওসি মাইনুলের বদলিতে উচ্ছ্বসিত জাজিরাবাসী, গ্রেপ্তার বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
শেয়ার করুন

স্থানীয় সংবাদদাতা

শরীয়তপুরের জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাইনুল ইসলামের বদলিকে ঘিরে এলাকাজুড়ে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন সূত্র বলছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা, অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়া, গ্রেপ্তার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে ওসির বিরুদ্ধে।

গত বছরের ৫ই আগস্টের পর থেকে জাজিরায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বিএনপি-জামায়াত, এনসিপি-শিবির এবং বৈছা কর্মীদের অপরাধ তৎপরতা, অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি, মব সন্ত্রাস বাড়তে থাকে। ওসি মাইনুলের পদায়নের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক উঁচু। কিন্তু তার বিরুদ্ধে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও মামলা বাণিজ্যে তৎপরতা দেখা যায় বলে জানান স্থানীয়রা।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ৪ঠা জুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ওসি মাইনুল বিভিন্ন মামলার প্রায় হাজারের কাছাকাছি আসামি গ্রেপ্তার করেন। এর মধ্যে আওয়ামী-সংশ্লিষ্টই রয়েছেন ৪৭৫ জন। এমন দক্ষতা প্রদর্শনে ওসি মাইনুলকে ঢাকা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসার হিসেবেও পুরস্কৃত করা হয়।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের পর তাদের ওপর নিপীড়ন চালানো, গ্রেপ্তার ও মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সাধারণ মানুষের।

এদিকে, নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে পুলিশের বড় পরিসরের বদলি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জাজিরার পুরস্কৃত ওসি মাইনুলকে আরও বড় দায়িত্ব দিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। এমন বদলির খবরে জাজিরাসহ পুরো শরীয়তপুর জেলায় স্বস্তি দেখা দেয়।

স্থানীয়দের মতে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কর্মীদের সংঘটিত হওয়া ঠেকাতে এবং নির্বাচনে ভূমিকা রাখতেই ওসি মাইনুলকে জাজিরা থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করে ওসি মাইনুল ইসলাম দাবি করলেন, “আমি অপরাধীকে শুধু অপরাধী হিসেবেই দেখি, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করি না। যতদিন দায়িত্বে আছি, আইন অনুযায়ী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাব। বদলি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত; যেখানে দায়িত্ব দেবেন, সেখানেই যথাযথভাবে কাজ করবো।”

নড়িয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের দাবি, “ওসি মাইনুল অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। তবে বদলি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। জাজিরার পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে রাখার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করা হবে।”

Visited 37 times, 1 visit(s) today