স্থানীয় সংবাদদাতা
সারাদেশে সারের অভাবে ব্যাহত কৃষিকাজ, ক্ষুব্ধ কৃষক; প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে চলছে আন্দোলন, অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের বাড়িতে, গুদামে, রাজনৈতিক কার্যালয়ে পর্যন্ত সারের অবৈধ মজুদের খোঁজ মিলছে!
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার শিহাড়া ইউনিয়নে বিএনপি নেতা সিরাজুল মণ্ডলের গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ১৪৯ বস্তা ডিএপি রাসায়নিক সার উদ্ধার করেছে উপজেলা কৃষি অফিস।
গতকাল সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে সারগুলো জব্দ করে উপজেলা কৃষি অফিসের গুদামে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তার আগে শিহাড়া ইউনিয়নের পাটলের গোয়েন্দা পাড়ায় একটি বাগানের ভেতর ‘সৈনিক ট্রেডার্স’ নামের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে সারগুলো পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সিরাজুল ইসলাম শিহাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি।
স্থানীয় কৃষক ও কৃষি অফিস সূত্র জানায়, খুচরা কীটনাশক ও কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সার ব্যবসা করেন। চলমান সার সংকটের সময় এত বিপুল পরিমাণ সার মজুদের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে তারা উপজেলা কৃষি অফিসে বিষয়টি জানালে কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে সারের বস্তাগুলো উদ্ধার করেন।
পাইকবান্ধা গ্রামের কৃষক মোশাররফ হোসেন, মইনুল ইসলাম ও বেল্লালসহ কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, “আমরা দিনের পর দিন সার না পেয়ে ধান-সবজি চাষে ক্ষতির মুখে পড়ছি। অথচ কেউ যদি গোপনে এত বস্তা সার জমা রাখে—এটা সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা। দায়ীদের শাস্তি হওয়া উচিত।”
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী সিরাজুল মণ্ডল দাবি করেন, তিনি একজন বৈধ খুচরা সার ব্যবসায়ী। তার দোকানে এমওপি ও ইউরিয়া সার থাকলেও ডিএপি সার ছিল না। নওগাঁর ডিলার নয়ন শীলের মাধ্যমে কোম্পানিতে টাকা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে বৈধভাবেই সার আনছিলেন বলে জানান তিনি।
তার দাবি, “আমি সার অন্য কোথাও পাচার করছি না। কৃষকদেরই বিক্রি করার জন্য গুদামে রাখছিলাম।” পরে কৃষি অফিস সেগুলো জব্দ করে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, “সংবাদ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে ১৪৯ বস্তা সার উদ্ধার করে গুদামে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীমুজ্জামান জানান, তিনি কৃষি অফিসারের সঙ্গে বিভিন্ন সারের পয়েন্ট পরিদর্শন করছিলেন। এসময় খবর পাওয়া যায়—একটি ট্রাক থেকে সার নামানো হচ্ছিল। তিনি ঘটনাস্থলে যেতে না পারলেও কৃষি অফিস সারগুলো জব্দ করে।
সারগুলো কোথা থেকে এসেছে তা নিশ্চিত হলে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
