স্থানীয় সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে মধ্যবয়সী এক ভিক্ষুককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির সক্রিয় কর্মী হওয়ায় সুবিচার না পেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন ভুক্তভোগী।
অবশেষে ঘটনার চারদিন পর গতকাল ২৯শে নভেম্বর, শনিবার রাতে ভুক্তভোগী ভিক্ষুক বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ করেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার ভোরে তার ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত বিএনপির কর্মী আজিমউদ্দিন। চারদিন ধরে বিচারের আশ্বাস দিয়ে সোনারগাঁ থানা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
এ ঘটনায় ওই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা অভিযুক্ত আজিমউদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান প্রশাসনের কাছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আজিমউদ্দিন মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।
এজাহারে অভিযোগে, তিনি একজন শ্রবণ ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। তার স্বামী জালাল উদ্দিন ৬ মাস আগে মারা যান। তিনি মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাইশটেকি গ্রামের মৃত আছমত আলীর ছেলে আজিমউদ্দিন তার ঘরে ঢুকে তার সঙ্গে অকারণে বিভিন্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি তাকে জোরপূর্বক স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করেন।
এসময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে আজিমউদ্দিন দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে বিষয়টি গ্রামের গণ্যমান্যদের জানালে চারদিন বিচারের আশ্বাসে সোনারগাঁ থানা বিএনপি ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ন্যায়বিচার না পেয়ে শনিবার রাতে ভুক্তভোগী ওই প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানা বিএনপি ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, অভিযুক্ত আজিমউদ্দিন আমার দলের কর্মী, এলাকার লোক। আমার সঙ্গে চলাফেরা। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার কিছু নাই। পুলিশ এসেছিল। ওই নারীকে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছেন।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল হাসান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। এ বিষয়ে মামলা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি আমরা।
অভিযুক্ত আজিমউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন দেওয়া হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া মেলেনি।
