নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউনূস সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছে আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী, এমনকি সাধারণ সমর্থকরাও। দলের অসংখ্য নেতাকর্মী আত্মগোপনে, অনেকেই মামলার ভয়ে এলাকা ছাড়া। মব করে হত্যা করা হয়েছে অসংখ্য নেতাকর্মীকে, পঙ্গু হয়েছেন। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, লুটপাট করা হয়েছে ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। কিন্তু মনোবলে চিড় ধরানো যায়নি। এই অবস্থার মাঝেও আওয়ামী লীগের ডাকে সারাদেশে পালিত হয়েছে লকডাউন কর্মসূচি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
সাধারণ মানুষের নীরব সমর্থনই লকডাউনকে সফল করে তুলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আজ ১৩ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা দেখা যায়। গণপরিবহন সীমিত, দোকানপাট বন্ধ এবং জনসমাগম ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। রাজধানীসহ সারাদেশে রাষ্ট্রীয় মদদে এবং ইউনূস সরকারের পোষ্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সন্ত্রাসের পরেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লকডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন।
বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ, উত্তর পূর্বাঞ্চলসহ সারাদেশেই লকডাউন মেনেছেন সাধারণ জনতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি-ভিডিওতে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়কে গাছ ফেরে, টায়ার জ্বালিয়ে, অহিংস কর্মসূচি পালনে রাজপথে বসে পড়েন সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন তারা।
এসময় বিভিন্ন জেলার পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নীরবতা এবং নিষ্ক্রিয় দেখা যায়। তাদের মাঝে ছিল না ধরপাকড়ের তোড়জোর।
দলের নেতারা বলছেন, ইউনূস সরকারের সময় তাদের ওপর নেমে এসেছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। দলের সদস্যদের গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে দমন করার চেষ্টা চলছে। হত্যা করা হচ্ছে। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আদালতেও হামলা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেও সাধারণ জনগণ নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতারা জানান কোনো সংগঠিত প্রস্তুতি নিতে পারেনি দলটি। তবুও দেশের দলের ডাকে ঘরে অবস্থান করে প্রমাণ করেছে, তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লকডাউনে জনতার এমন অভূতপূর্ব সাড়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইউনূস সরকারবিরোধী ক্ষোভ নীরবে বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়নের শিকার আওয়ামী লীগ এবার জনমানসে সহানুভূতি অর্জন করছে বলেও তারা মনে করছেন।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মধ্যেও শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের দাবি তুলে ধরতেই তাদের এই কর্মসূচি ছিল।



