নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খানের ডেনমার্কে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোপেনহেগেনের সম্মতি চেয়ে এগ্রিমো পাঠানো হয়েছে। তবে ডেনমার্ক থেকে এখনো ক্লিয়ারেন্স আসেনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড. নিয়াজ আহমেদ খানের নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। এগ্রিমো পেতে ১–৩ মাস সময় লাগতে পারে।
একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লামিয়া মোর্শেদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং তার বোন হুসনা সিদ্দিকীও রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রস্তাবিত। তবে এই প্রস্তাবনার কারণে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বিশেষ সূত্রের দাবি, প্রস্তাবিতরা দেশের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেছেন। ড. নিয়াজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লামিয়া মোর্শেদ ইউনূস সেন্টারের সাবেক নির্বাহী পরিচালক, আর লুৎফে ও হুসনা সিদ্দিকী যথাক্রমে প্রশাসন ও তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রস্তাবিতদের পেশাগত যোগ্যতার বাইরে পারিবারিক সম্পর্ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভোগ-সুবিধার প্রভাব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাধান্য পেয়েছে।
একজন জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাষ্ট্রদূত পদে প্রস্তাবিতদের অধিকাংশই ‘মাখন খাওয়া’, দীর্ঘদিন সরকারি সুবিধা ভোগ করেছেন, এখন এই পদে আরও আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে একটি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ড. নিয়াজ আমাদেরই ব্যাচমেট ছিলেন। তিনি চবিতে গুপ্ত সংগঠন শিবিরের রাজনীতি করতেন, কুখ্যাত রগকাটা নেতা হিসেবে এক ভয়ঙ্কর লোক তিনি। ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নসহ বাম সংগঠনগুলোর ওপর নির্মম নিপীড়ন-সহিংসতা চালানোর ইতিহাস রয়েছে তার। ঢাবিতে তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে শূন্য বা শিগগির শূন্য হতে যাওয়া রাষ্ট্রদূত/হাইকমিশনার পদগুলোর মধ্যে ডেনমার্ক ছাড়াও রয়েছে সিঙ্গাপুর, দ্য হেগ, থিম্পু, ইয়াঙ্গুন এবং তেহরানে। তবে প্রস্তাবিতদের পদায়ন নিয়ে এখনও নীতিনির্ধারণী আলোচনা ছাড়া কোনো আনুষ্ঠানিক ফাইলওয়ার্ক শুরু হয়নি।
লুৎফে সিদ্দিকী এবং হুসনা সিদ্দিকীর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তাদের একসঙ্গে রাষ্ট্রদূত হওয়াকে কেন্দ্র করে। লুৎফে সিদ্দিকী উপদেষ্টা পদমর্যাদার বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। হুসনা সিদ্দিকী নেদারল্যান্ডসে কেপিএমজি ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কর্মরত, তিনি নেদারল্যান্ডস বা সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রদূত পদে যেতে আগ্রহী।
লামিয়া মোর্শেদের পছন্দ ইউরোপীয় দেশ, যদিও সেখানে কোনো ভ্যাকেন্সি নেই। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিশেষ প্রয়োজনে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ব্যবহার করে নিয়োগ বাস্তবায়ন সম্ভব।
পেশাদার কূটনীতিকদের একটি অংশের অভিযোগ, রাষ্ট্রদূত পদে প্রস্তাবিত বাইরের নিয়োগ পেশাদারদের সুযোগ সীমিত করছে। তারা বলছেন, এই ধরনের নিয়োগ প্রথাগত কূটনৈতিক রেশিও ও ক্যারিয়ার প্রগতিতে প্রভাব ফেলবে।
রাষ্ট্রদূত নিয়োগের এই প্রক্রিয়া ও বিতর্ক আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও স্পষ্ট চিত্র তুলে দেবে।
