নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ও বিশিষ্ট ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের গ্রেপ্তারের পর তার একমাত্র কন্যা, কলেজপড়ুয়া তেজস্বী আফরোজ নির্যাতন ও ভীতির কারণে দ্বিতীয়বারের মতো আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গত ২৭শে সেপ্টেম্বর রাতে তেজস্বী (বয়স ১৭) ৩০টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, যখন তার ফ্ল্যাটের বাইরে আত্মীয়-স্বজন জোরপূর্বক ধোকার হুমকি দিতে থাকেন।
গত ১৭ই এপ্রিলে অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশ ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার করে। তুরিন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার তথ্য সংগ্রহ ও তদন্তের কাজ ছিল অসাধারণ। কিন্তু ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তুরিনের বাসায় হামলা চালানো হয়।
পড়ুন: বার্গম্যানের প্রতিবাদ: যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক কৌঁসুলী তুরিন আফরোজের গ্রেপ্তারে উদ্বেগ
যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থকরা তার চুল কেটে দেয়, সিগারেট দিয়ে ছ্যাঁকা দেয় এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। এই নির্যাতনের কোনো বিচার না হলেও, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ভূমিকার জন্য তুরিনকে প্রায় ১২ বছর পর গ্রেপ্তার করা হয়।
ব্যারিস্টার তুরিনের গ্রেপ্তারের পর তার কন্যা তেজস্বী একাকী ও অসহায় অবস্থায় বাসায় রয়েছেন। সম্পত্তির লোভে কিছু আত্মীয়-স্বজনের নিরবচ্ছিন্ন নিপীড়ন ও নির্যাতনের কারণে তিনি এর আগেও অন্তত দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
পড়ুন: ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের হেফাজতে নির্যাতন: জেএমবিএফ-এর তীব্র নিন্দা ও তদন্তের দাবি
২৭শে সেপ্টেম্বর রাতের ঘটনায় তেজস্বীর ফ্ল্যাটের বাইরে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা তার ফ্ল্যাটে ঢোকার চেষ্টা করলে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত করে তোলে। বাসায় থাকা গৃহপরিচারকরা একাধিকবার পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়েও কোনো সাড়া পাননি। অবশেষে তুরিন আফরোজের সহকর্মীদের প্রচেষ্টায় ভোর বেলায় উত্তরা পশ্চিম থানার সাব ইন্সপেক্টার রাকিব এসে তেজস্বীকে অবচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।
পড়ুন: আদালতকে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের চিহ্ন দেখালেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ
পুলিশ তাকে নিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়, কিন্তু তেজস্বীর পরিচয় জেনে সব হাসপাতালই তার চিকিৎসা করতে অপরাগতা প্রকাশ করে। সর্বশেষ শহিদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ, কিন্তু সেখানে থেকে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, বাসাতেই পরিচিত ডাক্তারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তেজস্বী এখন কিছুটা সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়েছেন। তবে তিনি এখনও শারীরিকভাবে দুর্বল এবং ভীত-সন্ত্রস্ত।
পড়ুন: কারাবন্দি তুরিন আফরোজের কন্যাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের হুমকি সৎ মামার, থানায় জিডি
তেজস্বীর মতো আরও শতাধিক হত্যার শিকার, গ্রেপ্তারের শিকার পুলিশ, রাজনৈতিক নেতাকর্মীর পরিবার আগস্টের ক্ষমতার পালাবদলের পর মব সন্ত্রাস ও বেআইনি গ্রেপ্তারের শিকার হয়ে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এই পরিবারগুলো আত্মীয়-স্বজন ও সহকর্মীদের সহায়তায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন—এই নির্যাতন ও ভীতির দিন কবে শেষ হবে?
এই ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানবাধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই এখন ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার অপেক্ষায় দিন গুণছেন।


