খাগড়াছড়ির গণধর্ষণ: হান্নান মাসউদের বিতর্কিত মন্তব্য ও ক্ষমা প্রার্থনা, এনসিপির আদিবাসী নেতার পদত্যাগ

খাগড়াছড়ির গণধর্ষণ: হান্নান মাসউদের বিতর্কিত মন্তব্য ও ক্ষমা প্রার্থনা, এনসিপির আদিবাসী নেতার পদত্যাগ
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিক্ষোভ, সহিংসতা ও পুলিশের গুলিতে ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ‘নীরবতা’ ও দলের এক শীর্ষ নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) অলিক মৃ।

আজ ২৯শে সেপ্টেম্বর, সোমবার বেলা সোয়া ১১টার কিছু পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ঘোষণায় তিনি এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগও তোলেন।

পাহাড়ি কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা সহিংসতায় রূপ নেয়। পাহাড়ীদের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু এর মধ্যেই সংঘর্ষ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হন। এরপর থেকে বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ আলোচিত বিষয় হয়ে উঠে।

অলিক মৃ লিখেছেন, “খাগড়াছড়িতে আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণ, আদিবাসীদের ওপর হামলা, আদিবাসীদের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং তিনজন আদিবাসীকে হত্যার ঘটনা নিয়ে এনসিপির নীরবতা এবং ধর্ষণ নিয়ে এনসিপির নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের মিথ্যাচারের প্রতিবাদে আমি অলিক মৃ এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) পদ থেকে পদত্যাগ করে দলের ই-মেইল এবং দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি। এনসিপির জন্য শুভ কামনা। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।”

গারো সম্প্রদায়ের তরুণ নেতা অলিক মৃ এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন। ফলে তার পদত্যাগে দলটির ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিতর্কিত মন্তব্য করে ক্ষমা প্রার্থনা হান্নান মাসউদ

অলিক মৃর অভিযোগের সূত্র ধরে এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বক্তব্যে তিনি ধর্ষণের ঘটনাটিকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। ভারত আমাদের পার্বত্য অঞ্চল কেড়ে নিতে চায়। তারা শেষ ট্রাম্পকার্ড খেলছে। একটা ভুয়া ধর্ষণের ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা আমাদের বাঙালি ও পাহাড়িদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।”

এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। তোপের মুখে পড়েন মোংলা মাসউদ খ্যাত রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া এই নেতা।

তীব্র সমালোচনার মুখে সোমবার বিকেল ২টা ১০ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হান্নান মাসউদ ক্ষমা চান। তিনি লেখেন, “গতকাল এক সমাবেশে আমি ভুলবশত ‘ভুয়া ধর্ষণ’ শব্দটি ব্যবহার করি, যা কোনোভাবেই আমার উদ্দেশ্য ছিল না। ধর্ষণের মতো অপরাধকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। এ ধরনের শব্দ ব্যবহারে আমি দুঃখিত ও বিব্রত।”

Visited 10 times, 1 visit(s) today