মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দের সাথে ট্রাম্পের বৈঠকে আমন্ত্রণ পাননি ‘প্রভাবশালী মুসলিম নেতা’ ড. ইউনূস

মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দের সাথে ট্রাম্পের বৈঠকে আমন্ত্রণ পাননি ‘প্রভাবশালী মুসলিম নেতা’ ড. ইউনূস
শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে গাজায় চলমান গণহত্যা এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। কিন্তু এই বৈঠকে আমন্ত্রণ পাননি ৯২ শতাংশ মুসলমান অধ্যুষিত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূস।

ইন্দোনেশিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জন-অধ্যুষিত দেশের এই বৈঠকে অনুপস্থিতি নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপ্রধানরা। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও বৈঠকে অংশ নেন।

কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ পেলেন না ড. ইউনূস। অথচ জর্ডানের রাজধানী আম্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য রয়্যাল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার (আরআইএসএসসি)’ ১৬তম বারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলমান ব্যক্তিদের তালিকা করেছে গত বছর, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান পেয়েছেন ড. ইউনূস। তিনি তালিকায় শীর্ষ ৫০ ব্যক্তিত্বের মধ্যে রয়েছেন। তাই কেন তিনি এই বৈঠকে আমন্ত্রণ পাননি, তা বিস্ময়কর বলে মনে করছেন সুধীজন।

যদিও একটি পক্ষের দাবি, এই বৈঠক ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী বলে ড. ইউনূস নিজেই এই বৈঠকে অংশ নিতে চাননি। দাবি করা হয়েছে, ড. ইউনূসের সাথে ইসরায়েলের সুসম্পর্ক রয়েছে, ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত ইহুদি অনেক নেতৃবৃন্দ ‘ফ্রেন্ডস অব ইউনূস’ এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তার সাথে সম্পৃক্ত। তাই তাদের বিরাগভাজন হতে চাননি ড. ইউনূস।

বৈঠকের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “এটি আমার প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। আমরা গাজা যুদ্ধ শেষ করতে চাই। হয়তো এখনই শেষ করতে পারি। সব বড় নেতাদের সঙ্গে সফল বৈঠক হয়েছে, শুধু ইসরায়েল ছাড়া। পরবর্তী ধাপে ইসরায়েলিদের সঙ্গে আলোচনা হবে। গাজায় কী হয়, তা দেখা যাক। তবে বৈঠকটি দারুণ হয়েছে।”

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেন, “আমরা ট্রাম্পের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখি। গাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ, আমরা যুদ্ধ থামাতে এবং জিম্মিদের ফেরাতে সবকিছু করতে প্রস্তুত।”

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বৈঠককে “কার্যকর ও ফলপ্রসূ” হিসেবে উল্লেখ করেন। আরব আমিরাত জানায়, আলোচনায় যুদ্ধবিরতি, জিম্মি মুক্তি, দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি ও মানবিক সংকট মোকাবেলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম এক্সিওস-এর তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যেখানে আরব ও মুসলিম দেশগুলো গাজায় নিরাপত্তা বাহিনী পাঠাবে, যাতে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করতে পারে। একইসঙ্গে পুনর্গঠন তহবিল ও যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসন পরিচালনার প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইসরায়েল এই বৈঠকে অংশ নেয়নি, তবে পরিকল্পনা সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়েছে। প্রস্তাবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যৎ প্রশাসনের অংশ হিসেবে দেখা হলেও, জঙ্গি সংগঠন হামাসের কোনো ভূমিকা রাখা হয়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “হামাসকে কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। তাদের নৃশংস কর্মকাণ্ডের জন্য গাজা শাসন থেকে সরাতে হবে।”

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতিসংঘে ভাষণে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, “শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা আছে।”

তিনি ট্রাম্পকে আহ্বান জানান গাজা যুদ্ধ থামাতে, এমনকি উল্লেখ করেন, “নোবেল শান্তি পুরস্কার চাইলে তাকে গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতেই হবে।”

ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউরোপীয় দেশগুলোর ফিলিস্তিন স্বীকৃতিকে তাচ্ছিল্য করে বলেন, “এসব রাজনৈতিক কৌশল, যুদ্ধ শেষের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। যদি আলাদা রাষ্ট্র গড়তে হয়, তবে আগে জানতে হবে এর সরকার কে হবে। হামাসের কোনো স্থান নেই ভবিষ্যৎ প্রশাসনে।”

Visited 14 times, 1 visit(s) today