এলাকায় ফিরেই বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলা, আহত ৩০

এলাকায় ফিরেই বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলা, আহত ৩০
শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন পর এলাকায় ফিরে এসেই সুসংঘটিত হয়ে অন্যায়ের শোধ নিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের এই প্রতিরোধের মুখে আহত হয়েছেন গত বছরের ৫ই আগস্টের পর থেকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দাবি বিএনপির।

গতকাল সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের টান বলাকিচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিএনপি কর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগের নেতা গিয়াস উদ্দিন, হোসেন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্টু চেয়ারম্যান ও নাজমুলের নেতৃত্বে যুবদল নেতা আনোয়ার প্রধানের বাড়িতে হামলা করে। সেই সঙ্গে বিএনপির ওয়ার্ড কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় মুহূর্তেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

আহত বিএনপি কর্মী শুক্কুর আলী বলেন, সন্ধ্যায় আমরা পার্টি অফিসে বসে ছিলাম। এ সময় আব্দুল মতিন মন্টু, গিয়াসসহ কয়েকজন ঈদগাহ মাঠে লোকজন জড়ো করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আমাদের পার্টি অফিসে হামলা করে। পরে আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

তিনি আরও বলেন, আহতদের গ্রাম থেকে বের হতে দিচ্ছে না তারা। আমরা কয়েকজন অনেক কষ্টে বেরিয়ে হাসপাতালে এসেছি। হামলায় আহত আসিফ ও নুর ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মতিন মন্টু বলেন, সরকার পতনের পর থেকে আমরা পলাতক। এর আগে তারা নিজেদের পার্টি অফিস ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আজকেও তারা এরকম একটি ঘটনা সাজিয়েছে, এখানে আমাদের কেউ জড়িত না। মূলত মামলা বাণিজ্য করতেই এসব নাটক সাজিয়েছে তারা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের ৫ই আগস্টের পর বিএনপির কর্মীরা তাদের কার্যালয় ভাঙচুরের কথিত ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গণ-মামলা দেয়। সেই মামলার আসামি নাজমুল, গিয়াস উদ্দিন ও মন্টু চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে এলাকায় ফেরার পর থেকেই দুপক্ষের বিরোধ চরমে ওঠে।

এক পর্যায়ে বুধবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হন। পরে উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ হয়। এতে ভাঙচুরের পাশাপাশি বিএনপির অন্তত ৩০ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে শাহাদত, আসিফ, নউরুল ইসলাম ও শুক্কুর আলীকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও স্থানীয়রা বলছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি এবং এলাকায় আতঙ্ক বিরাজমান।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। এ বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুপক্ষের কতজন আহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, বলেন তিনি।

Visited 10 times, 1 visit(s) today