❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক
রাজধানী ঢাকার ওয়ারীতে গত বছরের ১৪ই আগস্ট জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বিএনপি নেতা আল-আমিন ভূঁইয়া ও তার ভাই নুরুল আমিনকে। অথচ সরকারি গেজেটে আল-আমিন এখন “জুলাই শহীদ” হিসেবে তালিকাভুক্ত!
মামলার নথি ও পুলিশের তথ্য বলছে, তাদের মৃত্যু আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। আল-আমিনের বোনও স্বীকার করেন, হত্যার মামলা হয়েছে, আসামিরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।
প্রণোদনা ও প্রভাবের অভিযোগ
৪১টি নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেরই স্বজনদের নাম সরকারি তালিকায় তোলার পেছনে কারণ ছিল সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার লোভ। কোথাও প্ররোচনাও দেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি নিহতের পরিবার পাচ্ছে ৩০ লাখ টাকা, মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা এবং ঢাকায় ফ্ল্যাটের সুযোগ।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের জুলাই শাখার প্রধান যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন জানান, সব জেলার তথ্য যাচাইয়ের পর তালিকা পুনর্বিবেচনা হবে। আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কহীনদের নাম বাদ দেওয়া হবে।
অসুস্থতা বা দুর্ঘটনায় মৃতরাও আছে তালিকায়
• জামাল উদ্দিন (৬১৫): রিকশা চালানোর সময় অসুস্থ হয়ে মারা যান।
• মহিউদ্দিন মোল্লা (৪৮): সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মৃত্যুবরণ।
• সাইফুল ইসলাম (৫৯১): পুলিশের নথিতে ‘কাট ইনজুরি’, পরিবারের দাবি গুলিতে মৃত্যু।
৫ই আগস্টের পরের বিভিন্ন ঘটনায় মৃতরাও তালিকায়
আইন অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর মৃতদের নাম তালিকায় থাকার সুযোগ নেই। তবু তালিকায় নাম উঠেছে আল-আমিন ভূঁইয়া, সাইদুল ইসলাম ইয়াছিন, সাইফ আরাফাত শরীফ, আবু সাইদ ও শাহীন হাওলাদারসহ অনেকের। তাদের মৃত্যু হয়েছে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, মারামারি বা দাঙ্গার ঘটনায়।
অগ্নিকাণ্ডে নিহতরাও আছে তালিকায়
জুলাই শহীদের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা বিক্ষোভ-বিরোধীদের হামলায় মৃতরা স্বীকৃতি পাবে। তবু আগুনে পুড়ে নিহতদের নাম উঠেছে তালিকায়:
• নাটোরের ৪ জন: সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের বাড়িতে মব সন্ত্রাস চালাতে গিয়ে আগুনে পুড়ে মারা যান।
• লালমনিরহাটের ৬ জন: আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে মব সন্ত্রাস চালাতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান।
• বরগুনার আল-আমিন হোসেন: আওয়ামী লীগের মেয়রের বাড়িতে আগুন দিতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে মারা যান।
• যশোরের হোটেল জাবিরের ২৩ জন: কারো দাবি- আগুন নেভাতে গিয়ে নিহত, প্রশাসনের দাবি- নিহতরা আন্দোলনকারী। প্রত্যক্ষদর্শীদের মত- নিহতরা নিজেরাই আগুন দিতে গিয়েছিল
বিশেষ বিবেচনায় তালিকাভুক্তি
যশোরের জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদের নাম “বিশেষ বিবেচনায়” গেজেটে যুক্ত করা হয়েছে।
আইনি মত: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেছেন, আইনে জুলাই শহীদের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা হয়েছে। তবুও এর বাইরে গিয়ে কারও নাম তালিকাভুক্ত করা আইনসম্মত নয়।
এ বিষয়ে ইউনূস সরকারের ব্যর্থতাকে দুষছেন সুধীজন। একইসাথে বিভিন্ন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন স্থানে।
