❐ জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়—এটি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার এক বিশাল কেন্দ্র। প্রতিবার দানবাক্স খোলার সময় যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায়, তা এই মসজিদকে দেশের সবচেয়ে অর্থপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। এবারের দানে পাওয়া গেছে ৩২ বস্তা টাকা—যা প্রমাণ করে, মানুষ কতটা বিশ্বাস রেখে এই মসজিদে দান করে যাচ্ছে।
তবে এবার একটি বিশেষ চিঠি দেশবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে। এক নির্দিষ্ট ব্যক্তি চিরকুটে লিখেছেন:
‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। শেখ হাসিনা বীরের বেশে আসবে ফিরে বাংলাদেশে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’
এই বার্তা শুধু একটি মত প্রকাশ নয়—এটি একটি বিশ্বাস, একটি আশা এবং এক মানবিক নেতার প্রতি জনগণের অগাধ ভালোবাসার প্রতীক। এটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন মানুষ দেশনেত্রীর সুদূরদর্শী নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে তাঁর অবদানের বাস্তব প্রভাব প্রত্যক্ষ করেছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিল— গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে সমতল, সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল উন্নয়নের ছোঁয়া। দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার ঘটিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন আলো এনেছেন। আর এসব কারণেই সাধারণ মানুষ আজ তাঁকে শুধু একজন রাজনীতিবিদ নয়, একজন মানবিক নেত্রী হিসেবেও স্মরণ করছে।
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এমন বার্তায় প্রমাণ হয়, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে শেখ হাসিনা মানুষের বিশ্বাস, ভালোবাসা ও প্রার্থনার প্রতীক। এর প্রতিফলনই ঘটেছে দানবাক্সের এই চিরকুটে।
এই আস্থা শুধু কাগজে-কলমে নয়, মসজিদের মতো পবিত্র স্থানেও বারবার প্রকাশ পাচ্ছে—যেখানে মানুষ হৃদয় খুলে দান করে, আবার ভালোবাসার বার্তা রেখে যায় দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য।
জানা গেছে, এবার ৪ মাস ১৮ দিন পর পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চার শতাধিক মানুষের একটি দল এসব বস্তাভর্তি টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন।
তিন মাস পরপর দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার ৪ মাস ১৮ দিন পর দানবাক্স খোলা হয়। এ কারণে এবার নতুন করে বসানো হয়েছে আরও দুইটি দানবাক্স।
উল্লেখ্য, আজ ৩০শে আগস্ট, শনিবার সকালে খোলা হয় মসজিদের ১৩টি দানবাক্স। সময় বেশি নিয়ে দানবাক্স খোলায় অনেকেই ধারণা করছেন, এবার দানের পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। সকাল ৭টায় দানবাক্স খোলার কাজ শুরু হয় জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে। দানবাক্সগুলো খোলার পর সংগৃহীত টাকা বস্তায় ভরে মসজিদের দোতলায় নেওয়া হয়।
টাকাগুলো ভরতে মোট ৩২টি বস্তার প্রয়োজন হয়। সঙ্গে রয়েছে সোনা-রূপার অলঙ্কার এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। আর রয়েছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আসা চিরকুট, মানতের কথা ইত্যাদি।
