তীব্র কন্টেইনার জট চট্টগ্রাম বন্দরে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ ব্যবসায়ীদের

তীব্র কন্টেইনার জট চট্টগ্রাম বন্দরে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ ব্যবসায়ীদের
শেয়ার করুন

❐ বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে কন্টেইনার জমে মারাত্মক জট সৃষ্টি হয়েছে। ধারণক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। প্রতিদিন নতুন কন্টেইনার যুক্ত হলেও একই হারে খালাস না হওয়ায় এ সংকট আরও বাড়ছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বন্দরের হ্যান্ডলিং ও ডেলিভারি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংকট নিরসনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্দেশ দিয়েছে—চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হওয়া ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) বা অফডকগামী কন্টেইনারগুলো অবশ্যই খালাসের দিনেই সংশ্লিষ্ট ডিপোতে পাঠাতে হবে। যদি কোনো চালানের সব কন্টেইনার একই দিনে সরানো সম্ভব না হয়, তবে দ্বিতীয় দিনের মধ্যেই তা স্থানান্তর সম্পন্ন করতে হবে।

তবে বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এই সংকটকে কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট বলে অভিযোগ করেছেন।

চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ একটি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এরচেয়েও বেশি চাপ সামাল দিতে সক্ষম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে বন্দরকে তুলে দেওয়ার তোড়জোর শুরু হওয়ার পর থেকেই নানারকম বাহানা দেখা যাচ্ছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ব্যবসায়ী মহলে অসন্তোষ সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। কখনো শ্রমিকদের আন্দোলন, কখনো সিএন্ডএফ এজেন্টদের দাবি, কখনো ট্রান্সপোর্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সংকট সৃষ্টি করতে পারলে বড় বড় ইমপোর্টার-এক্সপোর্টাররা নিজেরাই চাপ দাবি তুলবে যেন বন্দর বিদেশি অপারেটরদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এতে ইউনূস সরকারেরই লাভ। তারা বলবে- দেখো, সবাই চাচ্ছে বিদেশি প্রতিষ্ঠান যেন চালায় বন্দর। আপনারা গণমাধ্যমকর্মীরা পুরনো রেকর্ড ঘেঁটে দেখুন, এরচেয়েও বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডেল করেছে বন্দর অতীতে। কিন্তু এখন কেন পারছেনা?

বর্তমানে বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও টার্মিনালে ২০ ফুট একক কন্টেইনার রাখার ক্ষমতা ৫৩ হাজার ৫১৮টি। এর বিপরীতে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় সেখানে জমা ছিল ৪৮ হাজার ৭৫১টি কন্টেইনার। সোমবার সংখ্যা ছিল ৪৮ হাজার ৪৯৪ এবং রোববার তা দাঁড়িয়েছিল ৪৯ হাজার ১৩১টিতে।

সোমবার ৩ হাজার ৮৩২টি ও মঙ্গলবার ৪ হাজার ২৫৪টি কন্টেইনার বন্দরের বাইরে নেওয়া হয়েছে।

বন্দর সচিব ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এখনো কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে শুক্র ও শনিবারে ডেলিভারি কম হওয়ায় সংকট কিছুটা তীব্র হচ্ছে। তিনি আশা করছেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এ ছাড়া ইতোমধ্যে কয়েকটি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তার ভাষায়, খালি কন্টেইনার জমে থাকায় পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। এর বাইরে বন্দরে এখনো পড়ে আছে ১০ হাজারের বেশি নিলামযোগ্য কন্টেইনার ও প্রায় ৩০০ পচনশীল পণ্যভর্তি কন্টেইনার। এগুলো সরানো গেলে বন্দরের প্রায় ২০ শতাংশ জায়গা খালি হয়ে যেত, যেখানে নতুন কন্টেইনার রাখা সম্ভব হতো।

এনবিআরের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আইসিডিগামী কন্টেইনার অবশ্যই একদিনের মধ্যে স্থানান্তর করতে হবে। কোনো চালানের সব কন্টেইনার ডিপোতে পৌঁছানোর পরই চার্জ কার্যকর হবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে বা ধারণক্ষমতা সংকটে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনারের অনুমোদনে ‘ডুয়াল ডেলিভারি’ চালু করা যেতে পারে।

গত ১৪ই আগস্ট এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (শুল্ক, রপ্তানি নীতি ও বন্ড) মো. আল আমিন এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেন। এতে তিন দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে আইসিডি মালিকসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে দীর্ঘদিন ধরে ৬৫ ধরনের আমদানি পণ্য বেসরকারি আইসিডিতে স্থানান্তরের সুযোগ রয়েছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো এসব পণ্য একদিনের মধ্যেই সরানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হলো।

Visited 20 times, 1 visit(s) today