জাবি প্রতিবিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির সভায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
গত রোববার উপাচার্যের কার্যালয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শাহেদুর রশিদের উপস্থিতি ঘিরে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে উভয় শিক্ষক সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান।
শিক্ষার্থীরা “মদদদাতা বিচার করে, প্রশাসন কি করে”, “লীগের দোসর বিচার করে, লজ্জা লজ্জা” ও “আওয়ামী লীগের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও” স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যাপক মোজাম্মেল হক তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার চেষ্টা করেছেন। গত ২৮শে এপ্রিলের এক চিঠিতে তিনি শিক্ষকদের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
অন্যদিকে, অধ্যাপক শাহেদুর রশিদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে।
৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “তদন্ত কমিটিতে অভিযুক্ত শিক্ষক থাকলে আমাদের সাক্ষ্যের গোপনীয়তা ও ন্যায়সঙ্গত বিচার কীভাবে নিশ্চিত হবে?”
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইমন অভিযোগ করেন, আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের কমিটিতে রাখা বিচারকে প্রহসনে পরিণত করেছে।
এদিকে, অধ্যাপক মোজাম্মেল হক ১৮ই আগস্টের এক চিঠিতে উপাচার্যকে জানান যে, ১৭ই আগস্টের সাক্ষ্যগ্রহণে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়ার কারণে তিনি কমিটিতে থাকা অনুপযুক্ত ও অনিরাপদ মনে করছেন। তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তবে শিক্ষকদের তদন্ত দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গতভাবে শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “কমিটি গঠন নিয়মানুযায়ী হয়েছে। শিক্ষকদের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিতে তদন্ত চলবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট নেবে।”
গত ১৭ই মার্চের হামলা ঘটনায় ১৯ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, যার মধ্যে ৯ জন সাময়িক বরখাস্ত।
