নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ার শাজাহানপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিলতিতে খুন হলেন আল আমিন (৩৫) নামে এক প্রসাধনী ব্যবসায়ী। পূর্বে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলা তুলে না নেওয়ায় প্রতিপক্ষ তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় এলাকা প্রশাসনের তৎপরতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
শনিবার এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন শাজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের ভাদাইকান্দি গ্রামের আফসার আলীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এক একর জমি নিয়ে এলাকার প্রভাবশালী নুরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আদালতের রায়ে আল আমিনের বাবার পক্ষে জমি প্রদান করা হলেও প্রতিপক্ষ তা মেনে নেয়নি এবং জমি জোরপূর্বক দখল নিতে চায়।
ছয় মাস আগে আল আমিনকে মারধরের ঘটনায় থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন তিনি। এর পর থেকেই তাকে একের পর এক হুমকি দেওয়া হতে থাকে। নিজের জীবনের আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন তিনি। কিন্তু পুলিশ ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি, এমনকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
জিডি ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আল আমিনকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি করে প্রতিপক্ষ। তিনি রাজি না হওয়ায় গত ২৮শে জুলাই সকালে বগুড়া শহরের নিউমার্কেটে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে তাকে বাড়ির পাশে বাঁশঝাড়ে ধরে এনে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। শরীরের অন্তত ৯টি স্থানে হাড় ভেঙে যায়।
আল আমিনের চিৎকারে তার বাবা ও স্ত্রী এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করে দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শনিবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিপক্ষ নুরুল ইসলাম ও তার দুই ছেলে আতিকুল ইসলাম ও আল মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত। তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। বর্তমানে ক্ষমতার পালাবদলে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন খুনিরা।
নিহতের স্ত্রী সালমা জাহান বলেন, ‘সামান্য জমির জন্য আমার স্বামীকে মেরে ফেলা হলো, আমার সন্তানদের এতিম করা হলো। আমি এর বিচার চাই, আমি হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’
এ ঘটনায় আল আমিনের চাচা জাহিদ হোসেন ১৩ জনকে আসামি করে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। কিন্তু মামলার পরও মূল অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
মামলার বাদী জানান, ‘আমাকেও মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। অথচ পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।’
