গোপালগঞ্জের ঘটনায় ফখরুল এনসিপির পক্ষ নিলেও মানবতার পক্ষ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির প্রতিবাদ

গোপালগঞ্জের ঘটনায় ফখরুল এনসিপির পক্ষ নিলেও মানবতার পক্ষ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির প্রতিবাদ
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

গোপালগঞ্জে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি রক্ষা করেত গিয়ে সেনা-পুলিশের গণহত্যার শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ। হত্যাযজ্ঞের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে। যা নাড়া দিয়েছে স্থানীয় বিএনপির মানবিক নেতৃবৃন্দকেও। ইউনূস সরকার ও প্রশাসনের এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপি।

নেতাদের বক্তব্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এনসিপির পক্ষে অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত বলে মনে করেন কর্মীরা।

ঘাঘর বাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে গতকাল স্থানীয় বিএনপি নেতারা পুলিশের দমন-পীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে কঠোর প্রতিবাদ জানান।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১৬ই জুলাই উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ওয়াপদার হাটে বিক্ষোভ করে। এ ঘটনার পর পুলিশ বিএনপিসহ বিরোধী মতাদর্শের হাজারো নিরীহ মানুষের নামে একটি বানোয়াট মামলা দায়ের করেছে। হয়রানি ও নির্যাতন করছে।

তিনি জানান, এই মামলায় ১৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামি করা হয়েছে—যাদের অধিকাংশই রাজনীতি করেন না, সাধারণ দিনমজুর, কৃষক কিংবা দোকানদার।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার হাওলাদার প্রশ্ন তোলেন, যারা সেদিনের ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পর্কই রাখে না, যারা রাজনীতি করেই না, তাদের কাদের ইশারায় মামলায় জড়ানো হলো? জনগণ কি এখন শুধুই ক্ষমতাসীনদের দলের সমর্থক হলে তবেই নিরাপদ থাকবে?

পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমান হাওলাদার সরাসরি থানা-পুলিশকে দায়ী করে বলেন, আপনারা ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। অথচ ঘটনাস্থল থেকে কাউকে ধরলেন না, এখন দিনের পর দিন নিরীহ মানুষদের ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। যাদের কোনো সংশ্লিষ্টতাই নেই।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষকে ভালো রাখতে। সেই মানুষদের যদি এইভাবে হয়রানি করা হয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলব।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি ইউছুপ আলী দাড়িয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ ফায়েকুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক ছলেমান শেখ, যুবদলের সদস্যসচিব মান্নান শেখ এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, কোটালীপাড়ায় রাজনৈতিক বিরোধিতাকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় শক্তিকে হাতিয়ার বানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারদলীয় বাহিনীর ভূমিকায় নেমেছে।, যা এক বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।

তারা এই অন্যায় মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃত নিরীহ ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানান।

Visited 6 times, 1 visit(s) today