বিশেষ প্রতিবেদক
প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই রায়কে সম্পূর্ণ অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং প্রহসনমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি কথিত টেলিফোন কথোপকথনের ভিত্তিতে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে প্রহসনমূলক মামলায় অন্তর্বর্তী জঙ্গি সরকার কর্তৃক গঠিত ট্রাইব্যুনাল একতরফাভাবে মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে এই রায় প্রদান করেছে।”
দলটির অভিযোগ, শেখ হাসিনাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে, এমনকি তার নিযুক্ত কোনো আইনজীবীর বক্তব্য না শুনেই এই রায় প্রদান করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ২৫শে মে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, অনুপস্থিতিতে কোনো ধরনের শুনানি ছাড়াই ৬ মাসের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
আওয়ামী লীগ বলেছে, “বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হলে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। এই রায় সেই মৌলিক নীতিকেই ভূলুণ্ঠিত করেছে। এমন নজিরবিহীন ঘটনা দেশের ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি।”
দলটির দাবি, বর্তমান তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খুনি ইউনূসের নেতৃত্বাধীন একটি “জঙ্গি চক্র”, যারা রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে বিচারিক প্রহসন চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ একে “বিচারিক সন্ত্রাস” আখ্যা দিয়েছে এবং বলেছে, “এই ট্রাইব্যুনাল পুরনো ক্যাঙ্গারু কোর্ট মডেলকেও হার মানিয়েছে।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “আমরা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই—এই অন্যায়, অবিচার এবং আইনের শাসন ধ্বংসের বিরুদ্ধে সকলে সোচ্চার হোন। বিশ্ব বিবেককেও আমরা জানাতে চাই—বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের এক জঘন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।”
আওয়ামী লীগ দৃঢ়ভাবে বলেছে, “দেশের জনগণ এই ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এবং ইনশাল্লাহ এই জঙ্গি চক্রকে প্রতিহত করবে।”
