ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সরকারি কলেজ অধ্যক্ষের নির্দেশ!

ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সরকারি কলেজ অধ্যক্ষের নির্দেশ!
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আজিজুল হক কলেজে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের একটি অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। কলেজ অধ্যক্ষ নিজে স্বাক্ষর করে নোটিশ জারি করেন, যেখানে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের উক্ত রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়।

সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এমনভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উপস্থিতির আহ্বান জানানোয় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং শিক্ষাঙ্গনে।

জানা গেছে, গতকাল কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অধ্যক্ষ প্রফেসর শওকত আলম মীর স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ প্রকাশ করা হয়। তাতে লেখা ছিল, কলেজ শাখার নবগঠিত ছাত্রদল কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ২রা জুলাই সকাল ১১টায় কলেজের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

নোটিশ প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলে শুরু হয় নানা প্রতিক্রিয়া। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর আলোকে প্রশ্ন ওঠে—একজন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দিতে পারেন? কারণ বিধি-২৫(১) অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন না এবং বিধি-২৫(৩) অনুযায়ী, তারা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারও করতে পারেন না।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কলেজ শাখার সদস্য সচিব নিয়তি সরকার বলেন, “একজন সরকারি অধ্যক্ষ রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। এটা নিন্দনীয় এবং একজন প্রশাসকের জন্য অগ্রহণযোগ্য।”

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কলেজ শাখার আহ্বায়ক জয় ভৌমিক বলেন, “একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের উচিত নিরপেক্ষ থাকা। কিন্তু তিনি প্যাডে নোটিশ দিয়ে একটি দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা অনভিপ্রেত।”

অন্যদিকে, কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম বিপ্লব বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমরা সবাইকে মৌখিক আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কিন্তু কলেজ প্যাডে অধ্যক্ষ নিজে থেকে নোটিশ দেবেন—এমন অনুরোধ আমাদের পক্ষ থেকে করা হয়নি।”

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অধ্যক্ষ প্রফেসর শওকত আলম মীর বলেন, “নোটিশটি অনিচ্ছাকৃতভাবে জারি হয়েছিল। পরে আমি তা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”

তবে শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক তৎপরতার এমন খোলামেলা উপস্থিতি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং নৈতিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।

এ বিষয়ে কলেজের গভর্নিং বডি বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও তদন্ত দাবি উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Visited 29 times, 1 visit(s) today