সংবিধান আর আইন মেনে কথা বলায় স্থায়ীভাবে চাকরি গেল তাবাসসুম ঊর্মির!

সংবিধান আর আইন মেনে কথা বলায় স্থায়ীভাবে চাকরি গেল তাবাসসুম ঊর্মির!
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবিধান আর আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রিসেট বাটন টিপে কোনো ইতিহাস মোছা যায় না। প্রশ্ন তুলেছিলেন অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে। আর তাতেই গেল তার চাকরি!

লালমনিরহাটের সহকারী কমিশনার (বর্তমানে ওএসডি সহকারী সচিব) তাপসী তাবাসসুম ঊর্মিকে বরখাস্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।বুধবার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তাপসী তাবাসসুম উর্মির বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একই বিধিমালার বিধি ৪(৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ সূচক গুরুদণ্ড প্রদান করা হলো।

কিন্তু বিতর্ক উঠেছে—তিনি কি আদৌ অসদাচরণ করেছিলেন? নাকি শুধুই সংবিধান আর নাগরিক অধিকার মেনে কথা বলেছিলেন?

এর আগে ২০২৪ সালের ৬ই অক্টোবর তাপসী তাবাসসুম নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘সাংবিধানিক ভিত্তিহীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রিসেট বাটনে পুশ করা হয়েছে। অতীত মুছে গেছে। রিসেট বাটনে ক্লিক করে দেশের সব অতীত ইতিহাস মুছে ফেলেছেন তিনি। এতই সহজ! কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে আপনার, মহাশয়।’

এই একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার আওতায় বিভাগীয় মামলা হয়। বলা হয়, তিনি ‘অসদাচরণ’ করেছেন।

তার স্ট্যাটাসের সারমর্ম—সংবিধানবহির্ভূত কোনো অন্তর্বর্তী সরকারকে তিনি স্বীকৃতি দেননি। একাধিক সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীও বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।

সুতরাং এক তরুণ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেই অনিয়মকে চিহ্নিত করে কথা বললে তা কি অসদাচরণ হয়?

তাপসীর ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, তিনি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রবিরোধী কিছু বলেননি বরং সংবিধান মেনে চলার দাবি জানিয়েছেন।

প্রশাসনের ব্যাখ্যা, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তাপসীর এমন মন্তব্য করা উচিত হয়নি। তিনি পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।

কিন্তু বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা কি এমন যেখানে একজন কর্মকর্তা অন্যায় দেখেও চুপ থাকবেন? তাহলে ‘নিরপেক্ষতা’ মানে কি কেবল শাসকের পক্ষে নীরবতা?

২০১৮ সালের শৃঙ্খলা বিধিমালার আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। শুনানিতে তিনি সরাসরি অংশ না নিয়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে লিখিত জবাব দেন। কিন্তু তা ‘গ্রহণযোগ্য’ না হওয়ায় তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সরকারের সমালোচনাকারী কণ্ঠগুলো দমন করতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Visited 2 times, 1 visit(s) today