নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কুয়াদা জামতলা মোড়ে ‘নগদ’ কোম্পানির ৫৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালেও পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নাটকীয় তথ্য। পুরো ঘটনাটি সাজানো হয়েছিল কোম্পানির প্রাইভেটকারচালক ও স্থানীয় যুবদল নেতাদের সহায়তায়।
ঘটনার নাট্যকারদের গ্রেপ্তার করেছে যশোর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের মধ্যে রয়েছেন নগদের নিজস্ব কর্মী ও দুই যুবদল নেতা। উদ্ধার হয়েছে ছিনতাই হওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় ৩২ লাখ টাকা।
যশোর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মঞ্জুরুল হক ভূঁইয়া জানান, সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।
নগদ কোম্পানির যশোর শাখার ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে নগদের একটি প্রাইভেটকারে করে টাকা নিয়ে যশোর শহর থেকে মনিরামপুরের বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে যাচ্ছিলেন তারা। গাড়িটি জামতলা মোড়ে পৌঁছালে হঠাৎ দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার দুর্বৃত্ত গাড়ির গতিরোধ করে। চালককে মারধর করে তারা গাড়ির ভেতর থাকা ৫৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
তবে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। টাকা বহনকারী গাড়ির চালক ইউসুফ আলী সাজু নিজেই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তার সহযোগিতায় ছিনতাই নাটকটি সাজানো হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল শনাক্তের মধ্য দিয়ে তদন্তের সূত্র মেলে। এরপর খোষালনগর এলাকা থেকে সাগর হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৬ জনকে আটক করা হয়।

দুই মাস্টারমাইন্ড
আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইমদাদুল গাজীর বাড়ি থেকে ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং সুজন ইসলামের বাড়ি থেকে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত দুটি চাপাতি ও একটি টাকা বহনের ব্যাগ।
ডিবির তথ্যমতে, গ্রেপ্তার ৭ জনই বাঁকড়া ইউনিয়ন যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে রনি গাজী ও নাসিম গাজী বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স সুমনের ঘনিষ্ঠ এবং ঝিকরগাছা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমানের অনুসারী বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরে থেকে পলাতক রয়েছেন বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স সুমন ও যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান।
এদিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেন।
তিনি বলেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দলীয় পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ নেই। কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তাদের বহিষ্কারের সুপারিশ করা হবে।”
