নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর উত্তরায় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর ডিস্ট্রিবিউটরের এক প্রতিনিধির কাছ থেকে র্যাব পরিচয়ে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের চাকরিচ্যুত দুই সদস্যসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রিমান্ডে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন—সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট জালাল উদ্দিন ওরফে রবিউল (৪৩), পুলিশের বরখাস্তকৃত সদস্য গোলাম মোস্তফা ওরফে শাহীন (৫৫) এবং তাদের সহযোগী ইমদাদুল শরীফ ওরফে নয়ন (২৮), সাইফুল ইসলাম শিপন (৩৫) ও মো. হাসান (২৮)।
১৯শে জুন, বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশীতা ইসলামের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক সুমন মিয়া, আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেকের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তথ্যটি আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আতিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া সেনা ও পুলিশ বাহিনীর সাবেক দুই সদস্যই ছিনতাইকারী চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন।
পড়ুন: ঢাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে র্যাবের ইউনিফর্ম পরে কোটি টাকা ছিনতাই
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ই জুন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে, উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডে নগদের স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটর অফিসের এমডি আব্দুল খালেক নয়নের বাসা থেকে চারজন ব্যক্তি দুটি ব্যাগে করে মোট ১ কোটি ২২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা নিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে রওনা দেন। বাসার সামনেই পৌঁছানোর পর একটি কালো রঙের হাইস মাইক্রোবাস তাদের গতিরোধ করে।
পরে র্যাবের পোশাক পরা ৮-১০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয়ে মোটরসাইকেল আরোহীদের জিম্মি করে ব্যাগভর্তি টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেল আরোহী ভুক্তভোগীদের গতিরোধ করে কালো রঙের মাইক্রোবাস। সেখান থেকে র্যাবের পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত বেরিয়ে এসে একজন ভুক্তভোগীকে ধাওয়া করে। তিনি দৌড় দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে ধরে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়।
পড়ুন: যশোরে নগদের ৫৫ লাখ টাকা ছিনতাই: মাস্টারমাইন্ড যুবদলের দুই নেতা
এ ঘটনায় নগদ কোম্পানির মানি ডিস্ট্রিবিউটর মো. আব্দুর রহমান গত ১৪ই জুন উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ বলছে, এই চক্র আরও বড় পরিসরে ছিনতাই ও প্রতারণা চেষ্টায় জড়িত থাকতে পারে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করছে তদন্ত দল।
