নিজস্ব প্রতিবেদক
সকালে এক রকম, বিকালে আরেক রকম—এক দিনে দুই বিপরীত বার্তা দিয়ে চরম বিতর্কে জড়াল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সকালে দলের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সামাজিক মাধ্যমে এনসিপি নারী নেত্রীদের বিরুদ্ধে ‘কুরুচিপূর্ণ প্রোপাগান্ডা’ ও ‘চরিত্রহননের চক্রান্ত’ চলছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অথচ বিকেলেই এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী নীলা ইস্রাফিল স্বীকার করেন দলের শীর্ষ নেতা সারোয়ার তুষার তাকে সেই কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাবটি দিয়েছেন।
এই স্বীকারোক্তি শুধু এনসিপির সকালবেলার বিবৃতিকে শুধু ভুয়া প্রমাণ করেনি, বরং তাদের নারীবান্ধব অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভুক্তভোগীর মুখে সরাসরি অভিযোগ আসার পরও এনসিপির পক্ষ থেকে উল্টো প্রোপাগান্ডার অভিযোগ তোলা দলটির রাজনৈতিক ও নৈতিক দেউলিয়াত্বের ইঙ্গিত দেয়।
সাবেক উপদেষ্টা হাসান আরিফের পুত্রবধূ ও এনসিপি নেত্রী নীলা ইস্রাফিল বলেছেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি— সারোয়ার তুষার আমাকে কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি। এরপর থেকেই আমাকে ঘিরে দলের কিছু অংশ সংগঠিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নারী অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এনসিপির বিবৃতিকে ভিক্টিম-ব্লেমিং এবং অভিযুক্তকে আড়ালের অপচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছেন। সকালে এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ফেসবুকে একটি ভুয়া ঘটনার ভিত্তিতে এনসিপির নারী নেত্রীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চলছে। এটি একটি কুচক্রী মহলের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
কিন্তু দলীয় নেত্রীর নিজের মুখেই সরাসরি অভিযোগ উত্থাপনের পর এ বিবৃতি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা এনসিপির অভ্যন্তরীণ নারী-বান্ধব অবস্থানের দাবিকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছে। একদিকে নারীর প্রতি সম্মান ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ভুক্তভোগী নারীকেই ষড়যন্ত্রের অংশ বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে— এটি রাজনৈতিক দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছু নয়।
নীলা নিজের অবস্থান পরিস্কার করেছেন ফেসবুকে
