দুই পর্যটক নিহত, একজন নিখোঁজের ঘটনায় ট্যুর এক্সপার্টের অ্যাডমিন বর্ষা গ্রেপ্তার

দুই পর্যটক নিহত, একজন নিখোঁজের ঘটনায় ট্যুর এক্সপার্টের অ্যাডমিন বর্ষা গ্রেপ্তার
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে দুই পর্যটকের মৃত্যু ও একজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় “ট্যুর এক্সপার্ট” নামের অনলাইনভিত্তিক ভ্রমণ সংগঠনের অ্যাডমিন বর্ষা ইসলাম বৃষ্টিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনার পর ১৩ই জুন, শুক্রবার সন্ধ্যায় আলীকদম থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি গ্রেপ্তার হন নিহত পর্যটক স্মৃতি আক্তারের বাবা হাবিবুর রহমান কর্তৃক দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে।

এর আগে, শনিবার সকালে হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে তার মেয়ে স্মৃতি আক্তারের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে আলীকদম থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ আনা হয়, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই ভ্রমণের আয়োজন করেন বর্ষা ইসলাম। ফলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১১ই জুন “ট্যুর এক্সপার্ট” গ্রুপের অ্যাডমিন বর্ষা ইসলামের নেতৃত্বে ৩৩ সদস্যের একটি পর্যটক দল আলীকদম পৌঁছে। দলে সহ-আয়োজক (কো-হোস্ট) হিসেবে ছিলেন হাসান নামে একজন এবং স্থানীয় গাইড ছিলেন সিদ্ধার্থ তঞ্চঙ্গ্যা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আলীকদমের ক্রিস্তং পাহাড় এবং থানচি উপজেলার লিমান লিবলু ও সাকাহাফং চূড়া জয় করা।

পথিমধ্যে দলটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়— একটি দলে ২২ জন এবং অপরটিতে ১১ জন পর্যটক।

তৈন খাল পারাপারের সময় ২২ জনের দলে থাকা ১৯ জন নিরাপদে পার হন। তবে হঠাৎ হড়কা বানে ভেসে যান কো-হোস্ট হাসান, শেখ জুবাইরুল ইসলাম ও স্মৃতি আক্তার। ঘটনার দুদিন পর বৃহস্পতিবার ভোরে কানাই মাঝির ঘাটে জুবাইরুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

১৩ই জুন, শুক্রবার সকালে তৈন খালের আমতলী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় স্মৃতি আক্তারের মরদেহ। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন সহ-আয়োজক হাসান।

এ ঘটনায় নিহত স্মৃতির বাবা হাবিবুর রহমান মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ট্যুর এক্সপার্ট গ্রুপ ফেসবুকে আকর্ষণীয় পোস্ট দিয়ে ভ্রমণের আয়োজন করে। পোস্ট দেখে তার মেয়ে ভ্রমণে যান। কিন্তু বর্ষা ইসলাম বৈরী আবহাওয়ার সতর্কতা উপেক্ষা করে, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া এবং বিধি মোতাবেক পর্যাপ্ত সংখ্যক গাইড না নিয়েই পাহাড়ি পরিবেশে ভ্রমণের আয়োজন করেন, যা মারাত্মক দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।

এজাহারে আরও বলা হয়, ট্যুর গ্রুপের তরফ থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্থানীয় গাইড সঙ্গে রাখা হয়নি। স্মৃতিসহ কয়েকজন অনভিজ্ঞ পর্যটক স্থানীয় গাইড ছাড়া দুর্গম পথে ফিরছিলেন। পথে শামুকঝিরি ঝরনা এলাকায় প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের মুখে পড়লে স্মৃতি, জুবাইরুল এবং হাসান ভেসে যান।

ট্যুর এক্সপার্টের প্রধান বর্ষা ইসলাম ও তার সহযোগীদের অবহেলা, অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, “পর্যটক যদি উপজেলা সদর ছাড়িয়ে কোথাও ভ্রমণে যান, তবে আগে উপজেলা পর্যটন সেবাকেন্দ্রে তাদের নাম-ঠিকানা নিবন্ধন করতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতি ১০ জন পর্যটকের জন্য একজন করে নিবন্ধিত ট্যুরিস্ট গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক। অথচ ট্যুর এক্সপার্ট কর্তৃপক্ষ ৩৩ জন পর্যটকের মধ্যে শুধু ১২ জনের নাম দিয়ে মাত্র একজন গাইড নেন। এমনকি ২২ জন পর্যটককে কোনো গাইড ছাড়াই ফেরত পাঠানো হয়। সেই পথেই তিন পর্যটক নিখোঁজ হন, যাদের মধ্যে এখনও একজনের খোঁজ মেলেনি।”

আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর্জা জহির উদ্দিন জানান, নিহতের পরিবারের করা মামলার ভিত্তিতে বর্ষা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ট্যুর এক্সপার্ট গ্রুপের আরও অজ্ঞাতনামা সদস্যদের আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত বর্ষাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Visited 54 times, 1 visit(s) today