ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু, উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ গেল আরও দুজনের!

ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু, উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ গেল আরও দুজনের!
শেয়ার করুন

❐ স্থানীয় সংবাদদাতা


নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান): বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পুঁতে রাখা নিষিদ্ধ স্থল মাইনের নির্মম বলী হলেন তিন বাংলাদেশি জুমচাষী ও শ্রমিক।

আজ ২৪ মে, রোববার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে তুমব্রু নোম্যান্সল্যান্ড সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকার ৪১ নম্বর পিলারের কাছে এই ভয়াবহ ও লোমহর্ষক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পুরো সীমান্ত জুড়ে এখন থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিহতরা হলেন—ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভাল্লুক্যা পাড়ার অক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), চিক্যং তঞ্চঙ্গ্যা (৩৪) ও শৈফুচিং তঞ্চঙ্গ্যা (৩২)। তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা এবং সীমান্ত এলাকায় দিনমজুরির কাজ করতেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে তুমব্রু নোম্যান্সল্যান্ড এলাকার একটি সীমান্ত ঘেঁষা কলাবাগানে কাজ করতে যান এই তিন শ্রমিক। অসাবধানতাবশত সেখানে পূর্ব থেকে পুঁতে রাখা একটি স্থল মাইনের ওপর পা পড়তেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ছিন্নভিন্ন হয়ে প্রাণ হারান অক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা।

সহকর্মীর এই ভয়াবহ অবস্থা দেখে পাশে থাকা চিক্যং ও শৈফুচিং তাকে উদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে ছুটে যান। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! অক্যমংকে ছুঁতে যাওয়ার আগেই সেখানে ওত পেতে থাকা আরও একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। দ্বিতীয় দফার এই শক্তিশালী বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান উদ্ধার করতে যাওয়া বাকি দুজনও।

পরপর দুটি মাইন বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো সীমান্ত এলাকা। দিকবিদিক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছোটেন। তুমব্রু জিরো পয়েন্টের ৪১ নম্বর পিলারের কাছ থেকে নিহত তিন বাংলাদেশির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. জাফর ইকবাল ঘটনার ভয়াবহতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থল মাইন বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যুর পর পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসান বলেন,”সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সাথে নিহতদের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এভাবে মাইন পুঁতে রাখার কারণে বারবার বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

Visited 7 times, 1 visit(s) today