❐ স্থানীয় সংবাদদাতা
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে পরিত্যক্ত মর্টারশেল বিস্ফোরণে সতনাইং তঞ্চঙ্গ্যা নামের ১২ বছরের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
আজ ২রা জুন, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সীমান্তের বাইশফাঁড়ি এলাকায় এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কিশোরটির শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোরের পরিবারটি পাঁচ-ছয় বছর আগে সীমান্তের ওপার থেকে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে ঘুমধুম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাইশফাঁড়ি পাড়ায় বসবাসরত কিংহ্লা তঞ্চঙ্গ্যা ও তার স্ত্রী জুমচাষের কাজে বের হন। সঙ্গে ছিল তাদের ১২ বছর বয়সী ছেলে সতনাইং তঞ্চঙ্গ্যা।
সীমান্তের ৯ নম্বর পিলার থেকে আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জুমখেতে জুমঘর নির্মাণের কাজ করার সময় সতনাইং একটি পরিত্যক্ত মর্টারশেল কুড়িয়ে পায়। অবুঝ কিশোরটি ওই মর্টারশেলটিকে খেলনা ভেবে খেলা করার সময় হঠাৎ সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
বিস্ফোরণে সতনাইংয়ের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে জুমখেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন এসে লাশের অংশবিশেষ উদ্ধার করে পাড়ায় নিয়ে যান এবং বাইশফাঁড়ি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু
পুলিশের তথ্যমতে, নিহত কিশোরের বাবা কিংহ্লা তঞ্চঙ্গ্যার স্থায়ী বাড়ি মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপের ডেকিবুনিয়া থানার মেদাই গ্রামে। সেখানে জাতিগত সহিংসতা ও যুদ্ধাবস্থা ছড়িয়ে পড়লে জীবন বাঁচাতে প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে তারা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাইশফাঁড়ি পাড়ায় এসে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু নিজ দেশের ফেলে আসা যুদ্ধের সেই মরণাস্ত্রই আজ এপারে এসে কেড়ে নিল তাদের একমাত্র সন্তানের প্রাণ।
ঘুমধুম সীমান্তে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এর আগে গত ২৪শে মে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ভালুকিয়া এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি বাগানচাষির মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বাগানে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ভালুকিয়াপাড়ার দুই বাংলাদেশির সন্ধান এখনো মেলেনি বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পরিত্যক্ত মর্টারশেল বিস্ফোরণে নিহত কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

