শিবিরের লেজুড় হতে চান না, বৈছা’র বাঙলা কলেজ শাখায় গণ-পদত্যাগ

শিবিরের লেজুড় হতে চান না, বৈছা’র বাঙলা কলেজ শাখায় গণ-পদত্যাগ
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ই মে, ২০২৫

সংগঠনের অভ্যন্তরে সমন্বয়হীনতা, একতার অভাব ও সংগঠনকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের সরকারি বাঙলা কলেজ শাখার নেতাদের মধ্যে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে।

সোমবার (১২ মে) রাত ১১টার দিকে সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব মাহতাব মারুফ ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

ফেসবুকে লেখেন: আমি মাহতাব মারুফ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটি, সরকারি বাঙলা কলেজ শাখার যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছি। দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, সংগঠনের কার্যক্রমে পর্যাপ্ত সমন্বয় ও একতার অভাব রয়েছে। যা আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংগঠনের নীতিমালার সঙ্গে মতানৈক্যের কারণে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি। পাশাপাশি, একটি রাজনৈতিক দল এই অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে, যা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত।

একইভাবে ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের কথা জানিয়ে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ হোসেন বলেন, আমি মারুফ হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটি, সরকারি বাঙলা কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছি। সংগঠনের কার্যক্রমে সমন্বয় ও একতার অভাব এবং নীতিগত মতানৈক্যের কারণে আমি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছি।

এদিকে কোন রাজনৈতিক দলের কারণে এমন পদত্যাগের ঘটনা ঘটছে, জানতে চাইলে সংগঠনের বাঙলা কলেজ শাখার কয়েকজন নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জামায়াত-শিবিরের হয়ে কাজ করা লাগছে, এটা অনেকেই পছন্দ করছেন না। তাই তারা পদত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে পদত্যাগ করে কী লাভ হলো? এই শূন্য পদগুলোতে গুপ্ত সংগঠন শিবিরের ছেলেদের ঢোকানো হবে। তাতে সংগঠন আরও জোরালোভাবে জামায়াত-শিবিরের পারপাস সার্ভ করবে। যারা পদত্যাগ করেছেন, তারা এই ট্যাগ খেতে চায়নি বলে সরে গেছে।

এ বিষয়ে বাঙলা কলেজ শাখার আহ্বায়ক এমএ মুত্তাকী বলেন, সম্প্রতি কিছু সদস্যের পদত্যাগের পেছনে মূলত রাজনৈতিক লেবেলিংয়ের ভয় কাজ করেছে। তারা ভাবছে সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকলে রাজনৈতিক ট্যাগ খাবে। যদিও তারা প্রমাণ করতে পারেনি যে এটি রাজনৈতিক সংগঠন। তবে ট্যাগ থেকে মুক্তি পেতেই হয়তো তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কমে গেলে কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়ে। তবে আমরা পদত্যাগকারীদের ভবিষ্যতের জন্য শুভ কামনা জানাই, বলেন তিনি।

Visited 82 times, 1 visit(s) today