নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৪ই মে, ২০২৫
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় যুবলীগের এক কর্মীকে হত্যার পর মরদেহ খালে ফেলে পালানোর সময় দুই যুবককে ধরে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
গতকাল বিকেল ৪টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার হলবান পুলের পাশের খালে নিহত যুবলীগ কর্মী জাকির হোসেনের মরদেহ বস্তায় ভরে খালে ফেলে পালানোর সময় স্থানীয়রা দুই যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে বলে নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান।
নিহত জাকির হোসেন (৪০) সোনাইমুড়ী উপজেলার ৮ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় যুবলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
আটক দুই যুবক হলেন—নোয়াখালী সদর উপজেলার চর কাউনিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫) এবং সোনাইমুড়ীর কালিকাপুর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে মো. বাবু (৩৩)।
বিএনপি সমর্থক আনোয়ার পেশায় অটোরিকশা চালক এবং বাবু স্থানীয়ভাবে জামায়াত সমর্থক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে জাকির সোনাইমুড়ী উপজেলার নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির একটি ভেকু মেশিন (মাটি কাটার মেশিন) পুড়িয়ে দেয়। এরপর কয়েকজন দূর্বৃত্ত জাকিরের বাড়িতে গিয়ে তাকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। পরে বিকেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে পার্শ্ববর্তী বেগমগঞ্জ উপজেলার খালের মধ্যে জাকিরের মৃতদেহ ফেলে দেয়ার সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পায়।
এ সময় ধাওয়া করে বাংলাবাজার এলাকায় গিয়ে সিএনজিটি আটক করে তারা। তখন তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, কয়েক মাস আগে তাবলিগ থেকে ফিরে জাকির মাটি বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। প্রতি গাড়ি মাটি তিনি ১২০০ টাকায় বিক্রি করতেন, যেখানে অন্য ব্যবসায়ীরা নিচ্ছেন ১৬০০ টাকা। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সৃষ্টি হয় এবং কয়েক দিন আগে প্রতিপক্ষের লোকজন জাকিরের মাটি কাটার ভেকু মেশিন পুলিশে দিয়ে দেয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলার অভিযোগও রয়েছে।
নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “বিএনপি-জামায়াতের কয়েকজন কর্মী—ইউসুফ, তুহিন, রাসেল, রাকিব ও জসীম—শনিবার আমার স্বামীর ভেকু মেশিন পুড়িয়ে দেয়। আমি পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে বারবার জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
বেগমগঞ্জ থানার ওসি লিটন দেওয়ান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সোনাইমুড়ী থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, নিহত জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আহতদের মধ্যে বাবুকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আনোয়ার হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বলছে, ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মাটি ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
