লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসার শৌচাগারে ৭ বছরের শিশুর মরদেহ, বলাৎকারের পর হত্যার অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসার শৌচাগারে ৭ বছরের শিশুর মরদেহ, বলাৎকারের পর হত্যার অভিযোগ
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ই মে, ২০২৫

লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনীর ‘আল মঈন ইসলামি একাডেমি’ মাদ্রাসার একটি শৌচাগার থেকে ৭ বছর বয়সী হিফজ বিভাগের ছাত্র সানিম হোসেনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চরম শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।

পরিবারের অভিযোগ—এই মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পৈশাচিক নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে ছোট্ট সানিমকে। শিশুটির শরীরে আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন দেখে পুলিশেরও প্রাথমিক ধারণা—সানিম হয়তো নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।

নিহত শিশুর বাবা হুমায়ুন কবির এক হৃদয়বিদারক অভিযোগে বলেন, “আমার ছেলেকে বলাৎকার করে, পিটিয়ে হত্যা করেছে ওরা। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। আমি এর বিচার চাই, আমি আমার ছেলের জন্য ন্যায়বিচার চাই।”

ঘটনার পরই পুলিশ মাদ্রাসার শিক্ষক মাহমুদুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে শিশুটির ওপর জ্বীনের আছর রয়েছে বলে জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল হক বলেন, “শিশুটির গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা দেখে প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

মাদ্রাসার পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষক মাওলানা বশির উদ্দিন অবশ্য দাবি করেছেন, “এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। আমরা নির্যাতনের কিছু জানি না।”

তিনি বলেন, “দুপুরে জোহরের নামাজ শেষে সানিম টয়লেটে গিয়ে দীর্ঘ সময় পরও বের হয়নি। পরে দরজা ভেঙে দেখা যায়, সে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় টয়লেটের ভেতর ঝুলে আছে। শিক্ষকরা তাকে নামিয়ে আনার পর দেখা যায়, তার মৃত্যু হয়েছে।”

কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, এই মাদ্রাসায় এর আগেও যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে ১৩ বছরের এক ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা ওমায়েরকে সালিশে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে দায়সারা করা হয়।

একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা অনেক কিছু জানি, কিন্তু বলার সাহস পাই না। অনেকেই এখানে এমন ঘটনার শিকার, কিন্তু সবাই ভয় পায়।”

এই ঘটনাটি আমাদের সমাজের আরও গভীর এক প্রকট সমস্যার দিকেই ইঙ্গিত করে—যেখানে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছায়ায় নিরাপত্তার আশায় পাঠানো শিশুদের একটি অংশ শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছে, অথচ অধিকাংশ ঘটনা নীরবতায় ঢাকা পড়ে যায়। সানিমের মৃত্যু শুধু শিশুমৃত্যু নয়, বরং জাতির বিবেকের মৃত্যু।

এদিকে, সচেতন মহলের প্রশ্ন— কাকে বিশ্বাস করবে আমাদের সন্তানরা? মাদ্রাসার দেয়ালের আড়ালে ঘটে যাওয়া এমন ভয়াবহ ঘটনা কতদিন চাপা পড়ে থাকবে?

Visited 33 times, 1 visit(s) today