নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে পুলিশের বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট হয়েছে। লুট হওয়া এসব অস্ত্র চলে গেছে সন্ত্রাসীদের হাতে। বিশেষ করে জামায়াত-বিএনপির ক্যাডারসহ দাগি সন্ত্রাসীরা এখন এসব অস্ত্র ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করছে।
এসব অস্ত্র দিয়ে একের পর এক খুন-জখমের ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সর্বশেষ গত ১লা মে ফতুল্লার পাগলা বাজারে ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম নান্টুকে গুলি করা হয়। যাতে ব্যবহৃত হয়েছে পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র, নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও সুধীজন জানিয়েছেন জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গত ৫ই আগস্ট পরবর্তী ঘটনা, যখন নারায়ণগঞ্জের দুটি থানা ও একটি রাইফেল ক্লাব থেকে লুট হয় মোট ১৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র। যার মধ্যে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা গেছে ১১১টি অস্ত্র। অবশিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে লুট হওয়া অস্ত্রের পরিমাণ আরো বেশি বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।
গত বছরের ৪ ও ৫ই আগস্ট সারাদেশে অন্তত ৪৬০টি থানায় হামলা চালিয়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশ হত্যার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম লুট করেছে। যা দেশের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক ক্যাডারদের হাতে চলে গেছে। নারায়ণগঞ্জ তেমনই একটি হটস্পট। এখানে ঢুকেছে বাইরে থেকে লুট করা অস্ত্র, বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
গত তিন মাসে নারায়ণগঞ্জে গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩ জন এবং সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। ফেব্রুয়ারিতে ফতুল্লায় সেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুন হোসেন, মার্চে রূপগঞ্জের চনপাড়ায় যুবদল কর্মী হাসিব এবং কাশীপুরে পাভেল নামের এক যুবক গুলিতে নিহত হন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। অবৈধ অস্ত্রের অবাধ ব্যবহার জনমনে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, “এখনও অবৈধ অস্ত্র রয়ে গেছে, যেগুলো উদ্ধারে কাজ চলছে।” জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাও জানিয়েছেন, অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্র বলছে, সন্দেহভাজন অস্ত্রধারীদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং অস্ত্র উদ্ধারে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে।
