কমিটি-কার্যালয়-সাইনবোর্ড নেই, নামসর্বস্ব ৬৫ রাজনৈতিক দল চায় নিবন্ধন!

কমিটি-কার্যালয়-সাইনবোর্ড নেই, নামসর্বস্ব ৬৫ রাজনৈতিক দল চায় নিবন্ধন!
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে হঠাৎ করেই তৎপর হয়ে উঠেছে অনেক নামসর্বস্ব রাজনৈতিক দল। এসব দলের অনেকগুলোর নেই কোনো কার্যকর কমিটি, আবার কিছু দল শুধু কাগজে-কলমেই অস্তিত্বশীল। অনেক দলের নেই নিজস্ব কার্যালয় কিংবা একটি সাইনবোর্ডও।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ৬৫টি দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে, যার মধ্যে অনেক দল গঠিত হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর। ইউনূস সরকারের আমলে জন্ম নেওয়া এসব দলের অধিকাংশ দলকেই কিংস পার্টি বলা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এসব নবগঠিত দলের প্রকৃত অবস্থান, কার্যক্রম ও নথিপত্র যাচাই করতে মাঠে নামলেও কিছু খুঁজে পাচ্ছেনা। গত সংসদ নির্বাচনের সময় নিবন্ধনের আবেদন করে বাদ পড়া ৮৭টি দল এবার পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জানিয়েছে। বর্তমানে দেশে ইসিতে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫৫টি।

নতুন দলগুলোর মধ্যে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’সহ ৪৬টি দল নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। ফলে ইসি ২২শে জুন পর্যন্ত দুই মাস সময় বৃদ্ধি করেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর ইসি দল নিবন্ধন নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। গত ৯ মাসে এনসিপিসহ ২৪টি নতুন দল আত্মপ্রকাশ করেছে। এর মধ্যে আদালতের নির্দেশে ৫টি দল— এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি— নিবন্ধন পেয়েছে।

২৫ ও ২৬শে এপ্রিল আত্মপ্রকাশ করেছে যথাক্রমে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ এবং ‘বাংলাদেশ নতুনধারা জনতার পার্টি (বিএনজিপি)’।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেই ব্যাঙের ছাতার মতো নতুন দল গজিয়ে ওঠে। যদিও এটিকে অনেকে গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ মনে করলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন, অনেক ক্ষেত্রেই এসব দলের পেছনে থাকে স্বার্থসিদ্ধি ও ক্ষমতার রাজনীতি।

সুজন সম্পাদক ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শুধু আলোচনায় আসার জন্য বা ব্যবসায়িক স্বার্থে দল গঠন করলে তা ইতিবাচক হবে না। দল গঠনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করা।

ইসি সূত্র বলছে, নিবন্ধনের জন্য দলগুলোর কিছু নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন— সক্রিয় কেন্দ্রীয় কমিটি ও কার্যালয়, অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় কার্যক্রম, ১০০ উপজেলা বা মহানগর থানা পর্যায়ে কমিটি, প্রতিটি ইউনিটে ২০০ ভোটার সদস্য, গঠনতন্ত্রে গণতন্ত্র ও নারীর অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি ইত্যাদি।

তবে এই শর্তগুলো সহজ করার জন্য সুপারিশ করা হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ইসি এখনো আগের শর্ত অনুযায়ী দল নিবন্ধন করছে।

আবেদনকারী অনেক দলের সঠিক কার্যালয় পর্যন্ত নেই। ‘বাংলাদেশ মুক্তি ঐক্যদল’-এর সভাপতি নুর ইসলাম জানান, তাদের সাইনবোর্ড ঝড়ে উড়ে গেছে। ‘বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ’ জানিয়েছে, তারা দেশের ৮টি জেলায় ও ৭২টি উপজেলায় কার্যক্রম চালায়।

কিছু দল যেমন ‘বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি (বাজাপা)’ দাবি করেছে, তাদের ৮-১০টি উপজেলায় কমিটি রয়েছে, কিন্তু সেগুলো কোথায় তা তারা জানাতে পারেনি। এনসিপির ক্ষেত্রেও এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি, কার্যালয় স্থাপন হয়নি, এমনকি গঠনতন্ত্র ও ইশতেহারও চূড়ান্ত হয়নি।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত নির্বাচনে ৯৩টি দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও মাত্র দুটি— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)— নিবন্ধন পায়।

এবারও একাধিক ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ‘নিউক্লিয়াস পার্টি অব বাংলাদেশ’, ‘সমতা পার্টি’, ‘বাংলাদেশ শান্তির দল’, ‘বাংলাদেশ বৈষম্যবিরোধী গণতান্ত্রিক দল’, ‘ওয়ার্ল্ড মুসলিম কমিউনিটি’ প্রভৃতি নামে নিবন্ধনের আবেদন করেছে।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, দলগুলো শর্ত পূরণ করছে কিনা, তা যাচাই করে তারপরই নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Visited 27 times, 1 visit(s) today