নিজস্ব প্রতিবেদক
যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ৫ই আগস্টের পর কিছু রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এখন বিভিন্ন স্থানে গেলে শোনা যায়, আগের তুলনায় চাঁদাবাজির ‘রেট’ বেড়ে গেছে। তার প্রশ্ন, “রেট বাড়বে কেন? বরং রেটই থাকা উচিত নয়।”
তিনি বলেন, চিহ্নিত অপরাধীদের পুলিশ থানায় নেওয়ার আগেই তদবির শুরু হয়ে যায়, যা বন্ধ করতে হবে।
শনিবার রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী জেলা ও মহানগর জামায়াতের আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি।
সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের দাবি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে প্রচলিত নির্বাচনী ব্যবস্থায় অযোগ্য লোকজনও সংসদ সদস্য হচ্ছেন, যারা আইন প্রণয়ন কিংবা সংস্কারে সক্ষম নন। তাই যেসব দল যত শতাংশ ভোট পাবে, তাদের তত শতাংশ আসন দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত বলে মত দেন তিনি।
তিনি বলেন, রমজান এবং আবহাওয়ার বিষয় বিবেচনায় আগামী ফেব্রুয়ারি অথবা এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন হওয়া উচিত।
সংস্কার প্রক্রিয়া গতি পেলে সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাইয়ের সহিংসতার ঘটনায় বিচারের দাবিও জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “সব বিচার হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু কিছু বিচার হওয়া দরকার যেন জনগণের আস্থা ফিরে আসে। ন্যায়বিচার হলে কালো টাকা ও পেশী শক্তির দৌরাত্ম্য কমবে। বিচার না হলে সেই শঙ্কা থেকেই যাবে।”
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত না হলে দেশের অস্থিরতা বাড়বে এবং অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়েও আবারও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে নাকি ফ্যাসিবাদীদের, সেটা ভাবার সময় এসেছে। সরকার জনগণের ইচ্ছায় গঠিত হলেও কিছু উপদেষ্টা অনাকাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখছেন।”
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিমসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
