নিজস্ব প্রতিবেদক
স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে ভোলার চরফ্যাশনে গুপ্ত সংগঠন জামায়াতে ইসলামির এক দায়িত্বশীল নেতার বাড়িতে অনশন বসেছেন রোজিনা (২৫) নামের এক যুবতী।
শুক্রবার উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার পুলিশের মধ্যস্থতায় ওই যুবতীকে তার পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাসা ভাড়া করে ওই তরুণীকে স্ত্রীর সাজিয়ে গোপনে বসবাস করে আসছেন জামায়াত নেতা সাইফুল্লাহ মনসুর। ৫ই আগস্টের পর সমাজ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভয়ে তাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করন। এতে ক্ষুব্দ হয়ে ওই তরুণী অনশনের সিদ্ধান্ত নেন।
রোজিনার প্রেমিক সাইফুল্লাহ মনসুর হেলাল এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আবু তাহেরের ছেলে। তিনি ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ৫ই আগস্টের পর থেকে ওই তরুণীকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী।
ভুক্তভোগী রোজিনা বলেন, সাইফুল্লাহ আমার দূরসম্পর্কে ফুফাতো ভাই। তিন বছর ধরে তার সঙ্গে আমার প্রেম চলছে। পরে মোবাইল ফোনে কথা বলে আমরা কাছাকাছি চলে আসি। তিনি মোবাইল ফোনে আমাকে অনেক মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে হৃদয় হরণ করেন। এভাবে আমাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। এরপর পরিবারকে না জানিয়ে আমরা পালিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছি দুজন।
তিনি জানান, সাইফুল্লাহ তাকে ঢাকায় ভাড়া বাসায় একা রেখে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। থাকা-খাওয়ার জন্যও টাকা পাঠাচ্ছেন না। আর্থিক কষ্ট হওয়ায় শুক্রবার বিকেলে প্রেমিকের বাড়িতেই চলে আসেন তিনি। এসে দেখেন স্বামীর ঘর তালাবদ্ধ। তাই বাইরে বসেছেন। তার আসার খবরে সাইফুল্লাহ ও পরিবারের লোকজন ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।
রোজিনা আরও বলেন, আমার সাথে দীর্ঘদিন সংসার করেছেন সাইফুল্লাহ। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আমরা সবই করেছি। এখন ৫ই আগস্টের পর তিনি ও তার মা-বাবা আমাকে মেনে নিচ্ছেন না। আমাকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছেন। স্বীকৃতি না পেলে আমি আত্মহত্যা করব।
এদিকে সারারাত অনশন করার পর শনিবার পুলিশের মধ্যস্ততায় ওই তরুণীকে পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে।
রোজিনার বাবা জসিম বলেন, শুক্রবার বিকেলে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবি নিয়ে জামায়াত নেতা সাইফুল্লাহর বাড়িতে অবস্থান করেছে আমার মেয়ে। কিন্তু এখন স্বীকৃতি দিতে চাচ্ছেনা তারা।
তিনি বলেন, আমার মেয়ের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আমি আইনি ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মীর শরিফ বলেন, তারা পরস্পর আত্মীয়। ঘটনাটি ষড়যন্ত্রমূলক হতে পারে। এখানে কোনো ফ্যাসিবাদের দোসরের হাত থাকতে পারে। তবুও আমরা বিষয়টি খোজ নিয়ে মিমাংসার চেষ্টা করব।
ভোলার শশীভূষণ থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল, শনিবার দুপুরে ওই তরুণীকে থানায় আনা হয়েছে। উভয়ের পরিবারকে নিয়ে ১০ দিনের মধ্যে বিষয়টির ফয়সালা হবে। তরুণীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
