নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য (এমপি) জোয়াহেরুল ইসলামের স্ত্রী রওশন আরা খানের মালিকানাধীন বাড়ি দখল করে ‘পাগলের আশ্রম’ চালু করার ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের সমন্বয়ক মারইয়াম মুকাদ্দাসকে (মিষ্টি) চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
১০ই মার্চ, সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইল সদর আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুব খান এ রিমান্ড আদেশ দেন।
রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মারইয়ামকে টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর হাউজিং এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশের একটি দল। তার বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির মামলা করেছেন বাড়ির মালিক।
এর আগেও ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন মিষ্টি ও তার সঙ্গীরা।
জানা গেছে, মিষ্টি বৈছা আন্দোলনের টাঙ্গাইলের একজন প্রভাবশালী সমন্বয়ক। তার স্বামীর নাম শাহ্ আলমাস। বাবার নাম মাজাহারুল ইসলাম। গ্রামের বাড়ি বাসাইল উপজেলার যশিহাটী গ্রামে। গতবছরের ৫ই আগস্টের পর তিনি আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। নানা বিতর্কিত কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
সর্বশেষ এমপির স্ত্রীর বাড়ি দখলে ব্যর্থ হয়ে পাগলের আশ্রম গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। একটি বিশেষ সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত মব চালাচ্ছেন।
পুলিশ জানায়, রোববার রাতে এমপি জোয়াহেরুল ইসলামের স্ত্রী রওশন আরা খান বাদী হয়ে তার বাড়ি দখলের ঘটনায় টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা করেন। এতে আসামি হিসেবে মারইয়াম মুকাদ্দাসের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া, তার সহযোগী হিসেবে আরও অজ্ঞাতনামা ৮–৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রওশন আরা খান তার বাড়ি দখলের বিষয়ে মিষ্টিকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি-ধমকি দেন। এ সময় মিষ্টি হুমকি দিয়ে বলেন, এই বাড়িতে বসবাস করতে হলে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় ৭ দিনের মধ্যে বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন মিষ্টি।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর পাড়ার ছোট কালীবাড়ি সড়কে বাদীর পারিবারিক ৫ তলা ভবনের কেঁচি গেটের ৬টি তালা ভেঙে মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের নিয়ে ভবনে প্রবেশ করে রওশন আরা খানের বাড়িটি দখল করে নেন। তার নেতৃত্বে ছাত্র-সন্ত্রাসীরা বাড়িতে গচ্ছিত নগদ ৫ লাখ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন।
শেষে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা ১৭ জন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিন্নমূল মানুষকে ভবনের কক্ষে প্রবেশ করিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ রেখে যায়। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
দেশবাসী এ ঘটনায় ক্ষোভ জানালেও বৈষম্যবিরোধীরা এখনো পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, এর আগেও মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টির নেতৃত্বে গত ৬ই ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য প্রয়াত সভাপতি ফজলুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম ও সাবেক পৌর মেয়র জামিলুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
এরপর মিষ্টি আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি দখল করে বৃদ্ধাশ্রম, পাগলদের আশ্রম, পশু আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। ঘোষণা দিয়ে একটি দল নিয়ে তিনি লুটপাট অব্যাহত রাখেন। সর্বশেষ গত শনিবারও জোয়াহেরুল ইসলামের স্ত্রীর বাড়ি দখল করে ছিন্নমূল মানসিক ভারসম্যহীন মানুষদের জোরপূর্বক ওঠান।
পরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে ১৮ জন ছিন্নমূল মানুষকে সরিয়ে দিয়ে দখল হওয়া বাড়িটি খালি করা হয়।
দেশব্যাপী সমালোচনা হলে শনিবার রাতে মিষ্টিকে আটক করা হয়। তবে দিবাগত রাত ২টার দিকে মুচলেকা নিয়ে আবার ছেড়েও দেওয়া হয়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর মিষ্টির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তারপর আবারও পুলিশ মিষ্টিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডের আবেদন করে।
টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের ওসি তানবীর আহমেদ জানান, সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামের স্ত্রী রওশন আরা বাড়ি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টিকে গ্রেপ্তার করি। পরে আজ সকালে আদালতে পাঠানো হলে পুলিশ উচ্চতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চায়। পরে আদালত মিষ্টির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
